আজ লাকসাম-চিনকি আস্তানা ডাবল রেললাইন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0

আজ ১৮ এপ্রিল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম হতে চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন উদ্বোধন করা হবে। রেল কতৃপক্ষ জানায় আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ রেল লাইন উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক লাকসাম রেলওয়ে জংশনে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেনসহ বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রেললাইন উদ্বোধন উপলক্ষে লাকসাম রেলওয়ে জংশনকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।

এদিকে রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ওই লাইনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ করেছে। প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত আলী জানান, প্রায় ১ হাজার ৭৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ডাবল লাইন প্রকল্পের আওতায় লাকসাম হতে চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার মেইন লাইন ও ২০ কিলোমিটার শাখা লাইনসহ মোট ৮১ কিলোমিটার মেইন লাইন, ৮টি বড় ব্রীজসহ ৫৩টি ছোট বড় রেল ব্রিজ, ১১টি রেল ষ্টেশন রিমডেলিং, ১৩টি লেভেল ক্রসিং, ৮টি ফুট ওভারব্রীজ নির্মান করা হয়েছে।

এ ছাড়াও এ ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচলের সিগন্যালিং সিষ্টেমের জন্য সিগন্যালিং সেন্ট্রাল ক্ল্যাসিক কন্ট্রোল (সিটিসি) সিষ্টেমসহ মর্ডাণ কম্পিউটার বেইজড ইন্টার লকিং (সিবিআই) স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে লাকসাম পর্যন্ত ১১টি স্টেশন কম্পিউটার প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ডাবল লাইন প্রকল্পটি চালু হলে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুত সময়ে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ১ ঘণ্টা সময় কম লাগবে।

জানা যায়, ২০০৮ সালের জুলাইতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশোধিত প্রস্তাবনায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও বর্ধিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে গত ১৩ ও ১৪ মার্চ গভর্নমেণ্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ রেলওয়ের জিআইবিআর আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। জিআইবিআর প্রতিনিধিরা সন্তেুাষজনক প্রতিবেদন দাখিল করায় এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর সময় নির্ধারণের অপেক্ষায়। আগামী ১৮ এপ্রিল একটি সম্ভাব্য সময়ও রয়েছে।

রেলের এ প্রকল্প উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের বিষয়েও অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে আমরা উদ্বোধনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি।

এদিকে রেলের মেগা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫২৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা কিন্ত পরবর্তীতে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এ কাজটি তদারক করেন কানাডার ক্যানারেল, অষ্ট্রেলিয়ার স্মেক, জামার্নীর ডিবি, জাপানের দাইনিচি ও বাংলাদেশের এসিআই কোম্পানী। তবে ব্রিটিশ সরকারের আমলে ১৯৬৪-৬৫ সালে লাকসাম-চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ডাবল লাইন নিমার্ণের জন্য জমি অধিগ্রহন করায় নতুন করে আর জমি অধিগ্রহন করতে হয়নি। এ মেগা প্রকল্পের অধীন ৬১ কিলোমিটার ডাবল লাইন ও ১১টি স্টেশন একই সাথে উদ্বোধন করা হবে।

Share.

Leave A Reply