আলো-অাঁধারির আওয়ামীলীগ

0

নঈম নিজাম: আলো-অাঁধারির কোনো রূপ থাকে কি? অন্ধকারের রূপ এক, ভরা জ্যোৎস্নার আরেক। নব্বই দশকের শুরুতে এক বর্ষায় গিয়েছিলাম আশুলিয়ায়। আশুলিয়া তখন ছিল ছিমছাম। সড়কটি চালু হয়নি। লোকজন সন্ধ্যার পর যেত না। বিকালে অনেকে যেতেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। সন্ধ্যার পর নিরাপত্তার অভাব ছিল। আমরা বন্ধুরা যেতাম দল বেঁধে। সন্ধ্যার পর আলো-অাঁধারি আমাদের তারুণ্যকে মুগ্ধ করত। কখনো আবার আকাশজুড়ে পূর্ণ চাঁদ। তেমনি এক রাতে গিয়েছিলাম জনমানবহীন আশুলিয়ার নির্মাণাধীন সড়কে। চারদিকে ভরা বর্ষা। ঢেউ আছড়ে পড়ছে সড়কের তীরে। জ্যোৎস্নার আলোর রুপালি ঝিলিক পানির ঢেউতে। মনে হচ্ছিল গভীর সমুদ্রতীরে আমরা। কেউ পানিতে নামছি না। অথচ স্নান করছি জ্যোৎস্নার ঢেউয়ে। দুনিয়াটা অনেক সুন্দর। মনের আলোতে এই সৌন্দর্যকে ভোগ করতে হয়। জ্যোৎস্নার আলোর ছটা দেখেছি আরব আমিরাতের মরুতে। সমুদ্র সৈকতে। পাহাড়ে-বনে। আর আলো-অাঁধারির ছায়ায় তৈরি হয় মায়ার জগৎ। ঝিঁঝিঁ পোকা অন্ধকারে আলো বিলিয়ে চারপাশের অসীম নীরবতাকে খানখান করে দেয়। অসীম শূন্যতায়ও মনে হয় না কোথাও কেউ নেই। অনেক সময় ভরা চাঁদের আকাশে মেঘের ছায়ায় আলো-অাঁধারির খেলা হয়। সেই সুন্দরকে দেখতে হয় চোখের আলোয়। মনের জানালায়। আজকাল মানুষ সুন্দরকে দেখতে চায় না। হৃদয়ের আকুলতাকে ছাপিয়ে যায় নিষ্ঠুরতা। শিশু রাজনের ওপর নিষ্ঠুরতার চিত্র প্রথম দেখে অনেকে খেতে পারেননি। খুলনার আরেক শিশুর ওপর বর্বরতা আমাদের আপ্লুত করেছিল। কিন্তু এখন সব কিছু স্বাভাবিক। কোনো কিছুই আমাদের স্পর্শ করছে না। হিংসার অনলে পুড়ছে রাজনৈতিক দলের গৃহ। জাগতিক মায়ার খেলায় একজন খুন করছে আরেকজনকে। কোনো ভাবান্তর নেই। স্বার্থের লড়াইয়ে রাজত্ব কায়েম হয়েছে দখলবাজ, বন্দুকবাজ আর আধিপত্যের সংস্কৃতির।

একটা বাড়াবাড়ি হচ্ছে। অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণহীন। অতি উৎসাহী, সুবিধাবাদী, হাইব্রিড, নবাগত আর বহিরাগতদের দাপট পথে পথে। ত্যাগী নেতা-কর্মীরা নতুন করে কোণঠাসা। সমস্যা এখানেও নয়। সমস্যা আমাদের সিস্টেমে। একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে। শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে এমনই হয়। জাতীয় পার্টি ব্যস্ত নৌকার জয়গান নিয়ে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ব্যস্ত তোষামোদী নিয়ে। সুশীলরা ব্যস্ত চাটুকারিতায়। আওয়ামী লীগ কর্মীরা ব্যস্ত হটকারিতা নিয়ে। টাকা কামানোর একটা প্রতিযোগিতা চলছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সবার আলাদা ব্যবসায়িক অফিস আছে। সহযোগী সংগঠনের নেতারাও বসে নেই। তারাও আলাদা অফিস নিয়েছেন। কর্মীরা বসে থাকবেন কেন? তারাও সব কিছু দেখে নিজের মতো প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সন্ত্রাস আর টেন্ডারবাজির ভয়াবহ রূপ সারা দেশে। রাজউক ভবনে কয়েকটি টেন্ডার নিয়ে ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল কিছু দিন আগে। র‌্যাব সময়মতো না গেলে বাড্ডার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো। সরকারি দলের লোকেরাই খুন করত নিজের সহকর্মীদের। তাই লাগাম টানার সিদ্ধান্ত সঠিক। কারণ এমপি-মন্ত্রীরা সন্ত্রাসীর পৃষ্ঠপোষক হলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। ক্ষমতায় থাকাকালে কেউ বোঝেন না, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা ভয়াবহ হয় ক্ষমতার আশ্রয়ে। বিরোধী দলে গেলে তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। ২০০১ সালে এমনই দেখেছি। নির্বাচনের আগে-পরে দাপুটেদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক গঠনের পর মীর্জা আজমকে আটক করা হয়েছিল। তখন অচল হয়ে গিয়েছিল জামালপুর। ক্ষোভের আগুনে পুড়ে যায় সরকারি অফিস-আদালত, রেলস্টেশন। প্রশাসন বাধ্য হয়ে মধ্যরাতে আদালত বসিয়ে মীর্জা আজমকে মুক্তি দেয়। জনভিত্তি থাকলে সাধারণ মানুষ এভাবেই নেতার জন্য বেরিয়ে আসে। একই সময়ে এর বিপরীত ছিল গডফাদারদের এলাকায়। দাপুটেরা আটকের ভয়ে নির্বাচনের আগে-পরে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিলেন। ফেনীতে কোনো প্রতিবাদ দেখিনি। লক্ষ্মীপুরে কিছুই হয়নি। আরও অনেক জেলার দাপুটের কাহিনীও একই। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সব দাপুটেই ছিলেন ফেরারি।

ক্ষমতায় থাকাকালে দাপট দেখানো সহজ। যা খুশি তা করা যায়। র‌্যাব, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া যায়, নিরীহ মানুষের সম্পদ দখল করা যায়, টেন্ডার বাক্স হাইজ্যাক করা হয়, চাঁদার টাকার উৎসব করা যায়। বিরোধী দলে থাকলে দেখা যায় কার কত মুরোদ। এখন বিএনপি টের পাচ্ছে কত ধানে কত চাল। হাওয়া ভবনে পিয়ন-দারোয়ানরা তারেক রহমানের চেয়ে বেশি দাপুটে ছিলেন। তাদের অপকর্মের দায় এখনো তারেক রহমানকে বহন করতে হচ্ছে। গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে জেল খাটতে হচ্ছে। অথচ মামুনের চেয়েও বেশি ক্ষমতাভোগকারীরা এখনো আয়েশে আছেন। ইতিহাস নির্মম। ইতিহাস ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের ক্ষমা করে না। অথচ ক্ষমতাসীনরা এই বাস্তবতা বোঝে না। যখন বোঝে তখন আর সময় থাকে না শোধরানোর। বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী ছিলেন এলাকাছাড়া। যারা ছিলেন তারাও দিন কাটিয়েছেন ভীতি নিয়ে। প্রতিদিন র‌্যাব বসদের কাছে ফোন আসত মন্ত্রী-এমপিদের। এলাকা থেকে ঢাকা ফেরার জন্য সহায়তা চাইতেন তারা। বিপদগ্রস্ত কর্মীদের রক্ষারও অনুরোধ জানাতেন। সাতক্ষীরা, বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁসহ শতাধিক নির্বাচনী এলাকার চিত্র এমনই ছিল। বেশি দাপুটেরাই সটকে পড়েছিলেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকরা তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছিলেন। আবার জীবন দিয়েছেন অনেকে। নৃশংসতার শিকার হয়েছিলেন পুলিশ, বর্ডার গার্ড সদস্যরা। হামলা র‌্যাবের ওপরও হয়েছিল। একদিন র‌্যাবের টপ বসদের একজনের সঙ্গে বসা ছিলাম। আমার সামনেই তিন এমপির ফোন। প্রত্যেকের এক কথা, ভাই রক্ষা করুন। র‌্যাবের কর্ডনে নির্বাচনী এলাকা থেকে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করুন। র‌্যাব তাই করেছিল। এমনকি হেলিকপ্টারেও কাউকে কাউকে ঢাকায় আনতে হয়েছিল। সেই সব দিনের কথা এখন সবাই ভুলে গেছে। আর ভুলে গেছে বলেই আবার শুরু করেছে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী আর খুনোখুনি। অন্য দল এখন নেই। তাই নিজেরাই খুন করছে নিজেদের। শোক দিবসের শোক তাদের স্পর্শ করছে না। এই বীর মহাপুরুষদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখতে হবে। নইলে সরকার তার মেয়াদ অতিক্রম করতে পারবে না। হোঁচট খাবে মাঝপথে। সময় থাকতেই সাধু সাবধান। আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি আমার মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তার কথা, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোরতা ঠিক হচ্ছে না। কর্মী দমাতে ক্রসফায়ারে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে সমস্যা বাড়বে। আগামীতে দল ও সরকার মুখোমুখি হবে। দল না থাকলে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি বললাম, দলকে অবশ্যই টিকিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু দলের ব্যানারে এখন হচ্ছেটা কী? হাইব্রিড, নবাগত, বহিরাগত অতি উৎসাহীরা কী করছে? বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অবশ্যই আমি সমর্থন করি না। আর যারা পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন তারাও ভালো মানুষ নন। সমাজে, রাষ্ট্রে হঠাৎ অস্থিরতা তারাই তৈরি করছেন। সরকার না থাকলে ওরা কেউ থাকবেন না। কাউকে খুঁজে পাবেন না। সোহেল তাজকে ধানমন্ডি রাসেল স্কোয়ারে পুলিশের পিটুনির সময় তাদের দেখিনি। এখন সোহেল তাজ নেই। বিবেকের তাড়নায় সরে পড়েছেন। আর নবাগত সুবিধাভোগীরা রাজত্ব করছেন। এই রামরাজত্ব কায়েমকারীদের লাগাম টানতে হবে। আর মন্ত্রী-এমপিরা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দিলে, তাদের কাছ থেকে কমিশন না নিলে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন হবে না। অবশ্যই ক্রসফায়ার স্থায়ী সমাধান নয়। সব কিছু স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে আনতে হবে। আইনের শাসনের স্বাভাবিক ধারা কার্যকর করতে হবে। বের হয়ে আসতে হবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে। গলদ সিস্টেমগুলো ঠিক করতে হবে। আমরা স্বাভাবিক একটা পরিবেশ চাই। দেশের সব নাগরিকের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের জবাবদিহিতা চাই।

টেন্ডার সন্ত্রাসে ব্যবহৃত অস্ত্রের বেশির ভাগই বৈধ লাইসেন্স। কিসের ভিত্তিতে একজন চার-পাঁচটি লাইসেন্স পেলেন? কে জবাব দেবে? রাজনৈতিক কর্মী হলেই অস্ত্রের লাইসেন্স দিতে হবে? সরকারের অর্জন মোটেও কম নয়। কম গণতন্ত্র, অধিক উন্নয়ন নীতির গতি ইতিবাচক। সরকারের সাফল্যও অনেক। এই সাফল্য ধরে রাখতেই দরকার সব ক্ষেত্রে মনিটরিং। জবাবদিহিতা। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা। দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র থাকলে রাজনৈতিক কর্মীরা সুস্থধারায় থাকবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের দীর্ঘ উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বাসায় সেদিন এক দীর্ঘ আড্ডায় ছিলাম। তার সঙ্গে কথা হচ্ছিল উন্নয়ন কাজের দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে। তিনি বললেন, মনিটরিং থাকলে দ্রুত বাস্তবায়ন হবেই। আড্ডার একপর্যায়ে তিনি ডাকলেন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও দলের মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুকে। গল্পে গল্পে তারা আলাপ করছিলেন এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় কীভাবে কাজ করতেন তা নিয়ে। প্রতি মাসে রাষ্ট্রপতি আলাদা করে বসতেন মন্ত্রীদের নিয়ে। মন্ত্রীরা জানাতেন প্রতি মাসের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি। কোথাও অসঙ্গতি থাকলে রাষ্ট্রপতি তা সংশোধন করতেন। নতুন করে নির্দেশ দিতেন। কারও ব্যর্থতা থাকলে রাষ্ট্রপতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতেন। প্রয়োজনে বদলে দিতেন দফতর। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বললেন, তাদের তটস্থ থাকতে হতো। বাবলু বললেন, একদিন রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ সময় ফোন এলো রাষ্ট্রপতির। বললেন, বাবলু তুমি কি বিশ্বকাপ ফুটবল দেখছ? বাবলুর উত্তর ছিল জি স্যার। এরশাদ বললেন, তুমি আরাম করে খেলা দেখছ। আর রাজধানীর রাজাবাজারে বিদ্যুৎ নেই। সেখানকার মানুষ মিছিল করে আমার কল্লা চাইছে। আমি চাই তুমি এখনই এ সমস্যার সমাধান করবে। যত রাত হোক আমাকে জানাবে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বাবলু ছুটে গেলেন পিডিবি অফিসে। নিজে বসে থেকে সমস্যার সমাধান করলেন। তারপর রাষ্ট্রপতিকে মধ্যরাতে ফোন করে জানালেন স্যার সব ঠিক। এরশাদ বললেন, মন্ত্রীদের ঘুম থেকে উঠাতেন মাঝে। বিশেষ করে ভোরে পত্রিকা পড়ে। এ ব্যাপারে দৈনিক খবরের সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানও আমাকে তার অভিজ্ঞতা বলেছেন। একদিন ফজরের নামাজ পড়ে তিনি কোরআন তেলাওয়াত করছেন। এ সময় বেজে ওঠে বাড়ির টেলিফোন। তিনি ফোন ধরলেন। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি বললেন, মিজান আমি প্রেসিডেন্ট এরশাদ বলছি। তোমার কাগজের এই নিউজটি ঠিক নয়। মিডিয়ার সঙ্গে এরশাদ এখনো সেই সম্পর্ক রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করলে, ফোন করেন। মন খারাপ করেন। কিন্তু সম্পর্ক নষ্ট করেন না। আবারও কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের আগের আমলের (‘৯৬ সালের সরকার) কথা। আমাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করলেন নজীব আহমেদ। তিনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী আপনাকে খুঁজছেন। বিরোধী দলে থাকতেও নেত্রী মাঝে মাঝে ডাকতেন। না ডাকলেও আমি যেতাম। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওটাই প্রথম ডাক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতেই নজীব আহমেদ সরাসরি নিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সালাম বিনিময়ের পর বসলাম। কথা হচ্ছে ওয়ান টু ওয়ান। মিডিয়ার অনেক বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বললেন। একপর্যায়ে তিনি বললেন, তোমরা আমাকে চেন। আমি হলাম মিডিয়াবান্ধব। অথচ এখন মিডিয়া আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কেন? আমি বললাম, আপনি অবশ্যই মিডিয়াবান্ধব। মিডিয়ার মানুষও আপনাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে। কিন্তু এখন মিডিয়া মিসহ্যান্ডেলিং হচ্ছে। আপনি এখন আর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নন। দেশের প্রধানমন্ত্রী। এক সময় আপনার কাছে সবাই যখন তখন আসতে-যেতে পারত। এখন রাষ্ট্রীয় কাজে আপনাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। সারাক্ষণ মিডিয়া নিয়ে চিন্তা করলে দেশ চলবে না। এই দায়িত্ব আপনার তথ্যমন্ত্রী ও প্রেস সেক্রেটারির। তাদের সঙ্গে সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ও পেশাদার সাংবাদিকদের যোগাযোগ নেই। ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে থাকতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেন। একপর্যায়ে আমার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করলেন। সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলার দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন এপিএস ইব্রাহিম হোসেন খান, প্রটোকল অফিসার আলাহউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং উপ-প্রেসসচিব নকিব আহমেদকে। তাদের সহায়তা করব আমি। আলাদা করে সবার সঙ্গে বসলেন তারা। অনেক কিছু নিয়ে কথা বললেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য তাদের পরামর্শ শুনলেন। নোট নিলেন। সবশেষ প্রশ্ন থাকত প্রেস সেক্রেটারি ও তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে কিনা। সবাই বলেছেন, তাদের সঙ্গে ওই দুজনের কারোরই যোগাযোগ নেই। অনেক বছর পর পুরনো কথাগুলো আবার মনে পড়ল। কেন পড়ল জানি না। হয়তো আলো-অাঁধারিতে একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বারবার হয় বলেই।

লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সম্পাদকীয়

Share.

Leave A Reply