আয়েশা আক্তার রিপার মৃত্যু রহস্য!

0

মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ রাপা প্লাজার সামনে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে রিকশায থাকা গৃহবধু আয়েশা আক্তার রিপা (২৭) এর ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেয় দুর্বৃত্তরা। ব্যাগটি ডান হাতের সাথে প্যাঁচানো থাকায় রিকশা থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়েন তিনি।

রিকশা থেকে ছিটকে পড়েও তিনি ব্যাগটি ছাড়েননি। ফলে সোবহানবাগ মসজিদের সামনে থেকে তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় ১০০ গজ দূর পর্যন্ত। রাপা প্লাজার সামনে পর্যন্ত আসার পর ব্যাগটি হাত থেকে ছুটে গেলে দ্রুত পালিয়ে যায় দুবৃত্তরা। এঘটনার পরই আয়েশাকে উদ্ধার করে ধানমন্ডিস্থ বংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আয়েশার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মোগড়াপাড়ার দমদমায়। তার বাবা মৃত শাহজাদা। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রিপা ছিলেন সবার ছোট। লালমাটিয়া এ ব্লকের ৫/৬ নম্বরের দ্বিতীয় তলায় বোন সীমা আক্তারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। রাইসা নামে তাঁর নয় বছরের একটি মেয়ে আছে। আয়েশার স্বামী আওলাদ হোসেন জমি বেচাকেনার মধ্যস্থতা করেন। ব্যস্ততার কারণে সোমবার রাতে তিনি বাসার বাইরে ছিলেন।

তবে বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনে রিপার মৃত্যুকে ঘিরে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন এমন কিছু তথ্য, যা পাঠককে বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে। এমনই কিছু প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হল পাঠকের উদ্দেশে:

বান্দরবন থেকে ফিরছিলেন রিপা- প্রথম আলোর প্রতিবেদন

পত্রিকাটি জানায়, ঘটনার সময় রিপার সাথে একই রিকশায় ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী খান মো. ইব্রাহিম।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ২৪ অক্টোবর আয়েশা বান্দরবানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গতকাল সকালে তিনি শ্যামলী পরিবহনে রাজধানীর পান্থপথে এসে নামেন। সেখান থেকে রিকশায় লালমাটিয়ার ভাড়া বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।
মেয়েকে স্কুলে দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন রিপা- সমকালের প্রতিবেদন

রিপার ছোট ভাই রায়হানজাদা রবি সমকালকে বলেন, গতকাল সকালে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেন রিপা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিপার মোবাইল ফোন নম্বর থেকে অচেনা কেউ কল করে পরিবারকে জানায়, তিনি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।

তিনি পত্রিকাটিকে বলেন, ইব্রাহিম নামে কাউকে আমরা চিনি না। তার সঙ্গে রিপা বা আমাদের কারও কোনো সম্পর্ক ছিল না। তা ছাড়া রিপা কোথাও বেড়াতে যায়নি। সে বোনের বাসাতেই ছিল। সকালে বাচ্চাকে স্কুলে দিতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রিপার বড় বোন সীমার মেয়ে মালিহা মির্জাও বলেন, খালা (রিপা) রাতে আমাদের বাসায় ছিল। সকালে আমি ঘুম থেকে ওঠার আগেই খালা বাসা থেকে বের হয়।

এদিকে মিরপুর সড়কের সোবহানবাগ এলাকায় সকালে দায়িত্বে থাকা একটি ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তা কর্মী আলমগীর হোসেন ও আনসার সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা ছিনতাইয়ের দৃশ্য দেখেননি। তবে পরে অন্যদের কাছ থেকে শুনেছেন।

অর্কিড প্লাজার নিরাপত্তা কর্মী আলী আজগর জানান, সকালে জালাল নামে এক নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালনের সময় ঘটনাটি দেখেন বলে তাকে জানিয়েছেন। তিনি সহকর্মীদের কাছে ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন।
লালমাটিয়ার বাসা থেকে তাজমহল রোডে বোনের বাসায় যাচ্ছিলেন রিপা- যুগান্তরের প্রতিবেদন

রিপার ভগ্নিপতি নজরুল ইসলাম মুকুলও হাসপাতালের মর্গে যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার সময় রিপা লালমাটিয়ার বাসা থেকে মোহাম্মদপুরের ২৫/২৫ তাজমহল রোডে তার বড় বোনের বাসায় যাচ্ছিলেন। ওই বাসায় রিপার একমাত্র মেয়ে রাইশা (৭) ছিল। সোমবার রাত ১০টার দিকে রিপা তার মেয়েকে রেখে লালমাটিয়ায় আরেক বোন সীমা আক্তারের বাসায় যান।

মুকুল বলেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বামী মো. শিমুলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় আয়েশা আক্তার রিপার। তখন থেকেই রিপা মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড এবং লালমাটিয়ায় বসবাসরত তার দুই বোনের বাসায় থাকতেন।
বান্দরবন থেকেই ফিরছিলেন রিপা- কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন

এদিকে দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টায় একটি বাস থেকে রাজধানীর পান্থপথে নামেন গৃহবধূ আয়েশা আক্তার রিপা (২৭)। বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবানে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ

Share.

Leave A Reply