ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তি করায় মামলা ৬ মাসের জামিন পেলেন লতিফ সিদ্দিকী

0

ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তির দায়ে করা সাতটি মামলায় ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

এর মধ্যে ছয়টি মামলা ঢাকার সিএমএম ও একটি মামলা নারায়ণগঞ্জের আদালতে দায়ের করা হয়েছিল।

লতিফ সিদ্দিকী এ সকল মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

পাশাপাশি কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

গত রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা ঢাকার সাত মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করলে হাইকোর্টে আসেন লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবীরা। ওই সাতটি মামলায় জামিন পেলেন তিনি।

তবে আরো চার মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের এই বহিষ্কৃত নেতা।

আদালতে জামিনের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান।

২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে টাঙ্গাইল সমিতির এক মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরবিরোধী। হজে যে কতো ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরব গেছে। তাদের কোনো কাম নাই। তাদের কোনো প্রোডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন করতেছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা নিয়ে ওখানে দিয়ে আসছে। অ্যাভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায়, প্রত্যেকের ৫ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়’।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ চিন্তা করল, এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে। তারা তো ছিল ‘ডাকাত’। তখন একটা ব্যবস্থা করল যে, তার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে একটা আয়ের ব্যবস্থা হবে’।

লতিফ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কেও কটূক্তি করেন। তার এ বক্তব্য বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি মোট সাতটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ভারত থেকে দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। দেশে ফেরার পর পরই ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল তার গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। ২৬ নভেম্বর ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করার পর লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ সময় তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া হয় এবং আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

Share.

Leave A Reply