খোলা সয়াবিন তেলের দাম কমেছে মণে ৯৩৫ টাকা

0

খোলা সয়াবিন তেলের দাম মণপ্রতি ৯৩৫ টাকা কমেছে। তবে এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমেনি বোতলজাত সয়াবিনের দাম। এজন্য মিলারদের অতি মুনাফা করার প্রবণতাকে দায়ী করছেন ভোক্তারা।
তবে বরাবরের মতোই অজুহাত হিসেবে মিলাররা বলছেন, চড়া দামে তেল কেনা থাকায় তারা মূল্য কমাতে পারছেন না।
ভোজ্যতেলের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে প্রতি মণ সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৩ হাজার ৮৬০ টাকা। বর্তমানে তা ২ হাজার ৯২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে মণে দাম কমেছে ৯৩৫ টাকা।
কিন্তু বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১১৫ টাকা। চলতি বছরের শুরুতেও এ দামেই সয়াবিন বিক্রি হতো।
প্রতি মণ সয়াবিন তেল ৩ হাজার ৮৬০ টাকা হিসাবে প্রতি লিটারের দাম পড়ে ৯৫ টাকা ৩৬ পয়সা। ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী বোতল, প্যাকেজিং ও লাভসহ ১৫ শতাংশ খরচ ধরলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম পড়ে ১০৯ টাকা ৬৬ পয়সা
বর্তমানে প্রতি মণ সয়াবিন তেল ২ হাজার ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে প্রতি লিটারের দাম পড়ে ৭২ টাকা ১৪ পয়সা। ১৫ শতাংশ খরচ ও লাভ ধরলে প্রতি লিটারের দাম ৮২ টাকা ৫৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি লিটার তেলে মিলাররা লাভ করছেন ৩২ টাকা ৪৪ পয়সা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা বছর ভোক্তারা সয়াবিন তেলের দামে পাম অয়েল ব্যবহার করছেন। বিক্রেতারাও সুকৌশলে ভোক্তাদের হাতে তা ধরিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু শীতকালে ঠাণ্ডায় পাম অয়েল জমে যায়। এ কারণে ভোক্তাদের ঠকানো যায় না। মিল মালিকরা শীতকালের চাহিদা ধরে রাখতে সয়াবিন তেলের দাম কমাবেন না বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, বুধবার প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১১২-১১৬ ও প্রতি পাঁচ লিটারের বোতল ৫৪০-৫৬০ টাকায়।
অস্বাভাবিক দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রির বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মিলারদের অতি মুনাফা ও অসাধুতাকে দায়ী করছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর ভূইয়া বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের পাইকারি বাজারের সঙ্গে মিল রেখে অবশ্যই বোতলজাত তেলের দাম কমানো উচিত। অবিলম্বে সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে বলে মনে করছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর বাজারে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের প্রতি আট লিটার সয়াবিন তেল খুচরায় বিক্রি হয়েছে ৯১৯ টাকা, পাঁচ লিটার ৫৮৫, দুই লিটার ২৩০ ও এক লিটার ১১৫ টাকা।
আর তীর ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের আট লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৮৭০ টাকা, পাঁচ লিটার ৫৭৫, দুই লিটার ২২০ ও এক লিটার ১১০ টাকায়।
জানা গেছে, গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৯৩৪ ডলার। মে মাসে ৮৯৩ ডলার, জুনে ৮৭১, জুলাইয়ে ৮১৩, আগস্টে ৭৪৫ ও সেপ্টেম্বরে ৭১১ ডলার, অর্থাৎ গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টনপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ২২৩ ডলার।
বোতলজাত তেল চড়া দামে বিক্রি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিত সাহা বলেন, রমজান মাস সামনে রেখে দেশের বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি হয়েছিল। প্রতি মণ তেল তখন ৯৪০ থেকে ১ হাজার ২০ ডলারে কেনা ছিল। ওই সময় আমদানি করা ২ লাখ টন সয়াবিন তেল এখনো বন্দরে মজুদ রয়েছে। তাই দাম কমানো যায়নি।
তিনি দাবি করেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের ক্রেতা মাত্র দেড় থেকে ২ শতাংশ। তাই এর প্রভাব খুবই সীমিত।

Share.

Leave A Reply