চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী-পুলিশ-র‌্যাব একীভূত: আমীর খসরু

0

চট্টগ্রাম নগরী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বিএনপির ওই নেতা বলেছেন, সন্ত্রাসী-পুলিশ-র‌্যাব এখন একীভূত হয়ে গেছে। কেন্দ্র দখলে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমে গেছে দাবি করে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই মুহুর্তে সেনাটহল জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।

 
সোমবার বেলা ১২টায় নগরীর মেহেদীবাগের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আমীর খসরু বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৫ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্ট এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হলেও সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত সন্ত্রাসী এখনো চট্টগ্রামে অবস্থা করছে।” খোদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামে অবস্থান করার কথা তিনি জানান।

খসরু বলেন, “এতদিন বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করলেও আজ সোমবার থেকে তারা মাঠে নেমেছে। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের নির্বাচনী কাজে দায়িত্বরত ব্যক্তিদেরকে তারা হুমকি দিচ্ছে।”

আমীর খসরু অভিযোগ করেন, “চট্টগ্রামের পাশ্ববর্তী জেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় ক্যাডারদের চট্টগ্রাম শহরে আনা হয়েছে। ফেনীর নামকরা একজন সন্ত্রাসীর তত্ত্বাবধানে কয়েক হাজার দলীয় ক্যাডার ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে এসে অবস্থান করছে। সল্টগোলাতে বিজিএমইএর রেস্ট হাউজে এসব সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে বলে তিনি দাবি করেন।”

তিনি বলেন, “নগরীর ওয়েল পার্ক হোটেল, পেনিনসুলা, চিটাগাং ক্লাব গেস্ট হাউজ, চিটাগাং ইনস্টিটিউট, সিটি করপোরেশনের গেস্ট হাউজ, হোটেল সন্দ্বীপ, থ্রি স্টার হোটেল, রক্সি বোডিং, কর্ণফুলী বোর্ডিংসহ বিভিন্ন রেস্ট হাউজ ও আবাসিক হোটেলে এসব বহিরাগতরা অবস্থান করছে। এসব তথ্য পুলিশ ও ইসিকে আমরা লিখিতভাবে বার বার জানিয়েছি। তারা অবগত থাকার পরও কিছু করছে না। এসব বিষয় ইসি ও পুলিশকে জানিয়েও কিছু হচ্ছে না। এ অবস্থায় সাধারণ ভোটাররা কিভাবে ভোট দিতে যাবে? ”

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম নগরী সন্ত্রাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আমার জীবনে আমি কোনদিন এত সন্ত্রাসী এক জায়গায় জড়ো হতে দেখিনি।”

আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে খসরু বলেন, “তারা সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সাদা পোশাকে নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে এলাকা ছাড়ার জন্য। হয়রানি ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়িতে গিয়ে দরজা পর্যন্ত ভাঙছে তারা।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “নির্বাচনের নামে তামাশা হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মনজুর আলম ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ভোট পাবেন। কিন্তু বহিরাগতদের এনে সকাল থেকে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের এজেন্টরা যাতে নির্বাচনে উপস্থিত না থাকে তার জন্য বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। পুলিশও সিভিল ড্রেসে গিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে ভোটের দিন এলাকায় না থাকতে।”

তিনি আরো বলেন, “মেডিক্যাল কলেজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে দিচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় তারা মনজুর বিরুদ্ধে রঙিন পোস্টার লাগিয়েছে। তারা র্যাব পুলিশ বিজিবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমরা নিরস্ত্ররা কিভাবে তাদের প্রতিরোধ করবো। গতকাল রোববার রাতে ফেনী থেকে এসেছে ৩শ জন সন্ত্রাসী। রেল ক্রসিং এলাকায় তারা পেপার বিছিয়ে রাত যাপন করেছে। পলিটেকনিক এলাকায় ৫জন সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সামনে চলাফেরা করছে। জোর করে আমাদের এজেন্টদের কাছ থেকে ফরম ছিনিয়ে নিচ্ছে।” এসব পুলিশকে জানানোর পরও কিছু হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

Share.

Leave A Reply