চসিকে মন্ত্রীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ইসিকে চিঠি

0

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের পক্ষে ক্ষমতাসীসন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ চারজনের ভোট চাওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন চট্টগ্রামের রিটার্নি কর্মকর্তা।

অভিযুক্তরা হলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ও চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কিংবা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মো. আবদুল বাতেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডলকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার সম্প্রতি এক সভায় বলেন, ‘যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করুন, না হলে আমাকে আবার ঝাড়ু হাতে নামতে হবে।’

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ‘সিএমপি কমিশনার সরল বিশ্বাসেই হয়তো কথাটি বলেছেন। এরপরও যেন তিনি কথায় ও কাজে নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন, সে জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।’

একই সঙ্গে বিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাওয়ায় সতর্ক করা হয়েছে মেয়র পদপ্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিকেও। এর আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি হালিশহরের এক মতবিনিময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী নাগরিক কমিটির প্রার্থী আ জ ম নাছিরের উপস্থিতিতে তার জন্য ভোট চান।

গত ২৯ মার্চ হালিশহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘চট্টগ্রামস্থ সন্দ্বীপবাসী’র মতবিনিময় সভায় নাছিরের পক্ষে ভোট চান মোশাররফ হোসেন।

এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে ওই চিঠিতে কমিশনের পরামর্শ চেয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন।

আর ওই সভায় নিজের জন্য ভোট চাওয়ায় নাগরিক কমিটির প্রার্থী আ জ ম নাছিরকে গতকাল রবিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন। তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া গতকাল রবিবার জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠকে পোস্টার ও নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নাছিরের ‘নির্বাচনী কৌশল’ ঠিক করতে গত ৩১ মার্চ পেনিনসুলা হোটেলে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এতে গৃহায়ণমন্ত্রী ছাড়াও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উপস্থিত ছিলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নির্বাচনী কর্মকৌশল ঠিক করেন।

ওইদিন বৈঠকে যাওয়ার সময় হোটেলের প্রবেশপথে উপস্থিত সাংবাদিকদের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী জাবেদ বলেছিলেন, ‘আমরা ১৪ দলের নেতারা সবাই বসছি। সামনে নির্বাচন উপলক্ষে একটি কৌশল ঠিক করতে এ বৈঠকে বসা। যে করেই হোক আমাদের প্রার্থীকে জেতাতে হবে।’

তাদের এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলমের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

তবে পেনিনসুলার বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিতির কারণে আচরণবিধির লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাই এ নিয়ে চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

হালিশহরের মতবিনিময় সভা ও পেনিনসুলার বৈঠকের অভিযোগের তদন্ত করেন যথাক্রমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও সহকারী মো. আলাউদ্দীন আল মামুন।

দুই কর্মকর্তাই তাদের তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল রবিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেন। দুই কর্মকর্তাই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে বৈঠক করায় তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘এমনকি ওইদিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যা আমাদের তদন্তেও উঠে এসেছে। তবে বৈঠকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ছিলেন না।’

এদিকে, চট্টগ্রাম নাগরিক আন্দোলনের ব্যানারে নির্বাচন করা বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী এম মনজুর আলম আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিয়েছেন।

Share.

Leave A Reply