জাগরণকর্মীদের পিটুনিতে ইমরান অজ্ঞান

0

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের সময় সংঘর্ষে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন গণজাগরণ মঞ্চের (একাংশ) মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. ইমরানের নেতৃত্বে সন্ধ্যায় একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি রূপসী বাংলা হোটেলের দিকে রওনা হয়।

কিছুদূর এগোনোর পর শাহবাগে অবস্থান নেওয়া জাগরণমঞ্চের আরেক অংশের কর্মীরা মিছিলে হামলা করে। এ সময় তৃতীয় অংশও এসে এই সংঘর্ষে অংশ নেয়। শুরু হয় জাগরণ মঞ্চের তিন পক্ষের সংঘর্ষ।

চেয়ার, ইট-পাটকেল আর লাঠি-সোটা নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে শাহবাগ কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের মাঝে পড়লে ইমরান এইচ সরকারকে বেদম পিটুনি দেয় মঞ্চের কর্মীরা। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরে মঞ্চের কয়েকজন কর্মী ইমরানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে নিয়ে যায়।

পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এবং জাগরণ মঞ্চের তিন অংশের সংঘর্ষে ইমরান ছাড়াও অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে।

ইমরানের ওপর হামলার জন্য তার অনুসারিরা গণজাগরণ মঞ্চের কামাল পাশা গ্রুপের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে। তবে কামাল পাশা এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ইমরানকে তার ছেলেরা মারধর করেনি। অন্তঃকলহের জেরে ইমরান নিজকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন।

কামাল পাশা উল্টো দাবি করেন, ইমরানের ছেলেদের হামলায় তার পক্ষের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমিটির সদস্য মেহেদী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে, গণজাগরণ মঞ্চের কামাল পাশা গ্রুপের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে একই দাবিতে বিকেল থেকে শাহবাগে অবস্থান নেয় তিনটি অংশ। একটির নেতৃত্বে ছিলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইমরান এইচ সরকার।

দ্বিতীয় অংশের নেতৃত্বে ছিলেন কামাল পাশা চৌধুরী। গণজাগরণ মঞ্চের তৃতীয় অংশের নেতৃত্ব দেন শাহাবাগ আন্দোলনের ব্যানারে ওয়ার্কার্স পার্টি সমর্থিত ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু।

জানা গেছে, ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বাধীন অংশে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) কয়েকটি বাম সংগঠনের জনা বিশেক নেতাকর্মী অংশ নেয়।

কামাল পাশা চৌধুরীর অংশে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। ৩০/৩৫ জনের এই দল একই সঙ্গে সাঈদীর ফাঁসি দাবি করেন।

আর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসুর অংশে জনা দশেক নেতাকর্মী গোল হয়ে বসে নানা স্লোগান দেন।

সমাবেশে ইমরানকে উদ্দেশ্য করে কামাল পাশা বলেন, ‘আপনাদের মঞ্চ থেকে অনেক বড় বড় বক্তব্য আসছে। এ ধরনের বক্তব্য আসলে মুখ সেলাই করে দেয়া হবে। আমরা হাত বাড়িতে রেখে আসিনি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছেন। অথচ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে।’

এর আগে জামায়াত নেতা সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে বুধবার দুপুরে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে ইমরান নেতৃত্বাধীন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের ছোড়া গরম জল, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে ইমরানসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

Share.

Leave A Reply