তোরা তো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চেয়ে ও খারাপ : শিল্পী আসিফ

0

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ এখন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখে চলছেন তার ফেসবুকে। তেমনি একটি লেখা তার ফেসবুক থেকে নিয়ে শেয়ার করা হলো পাঠকদের জন্য…

২০১০ এর শুরুতেই আমি পেশাদারী সঙ্গীত থেকে বিরতি নেই। ২০১৩ সালে ‘এক্স প্রেম’ অ্যালবাম নিয়ে আবার ফিরে আসি শুধুমাত্র ফ্যানদের জন্য, সিনিয়র শিল্পী, সুরকারদের চাপও ছিল। মোবাইলে গানের ব্যাপারগুলো কোম্পানি গুলোই দেখতো। ফেসবুক কিংবা টেকনোলজীর যে কোন বিষয়েই আমার কোন আগ্রহ ছিলো না। অ্যালবামের খবর পেয়েই গ্রামীণফোনের ভাস ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার ছোট ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে একসাথে কাজ করার প্রস্তাব দিলো।

যেহেতু ব্যাপারগুলো আমি বুঝতাম না, তাই আগ্রহও ছিলো না। গ্রামীণফোনের সঙ্গে আমার কোম্পানি আর্ব এর চুক্তি হল। তার আগেই লোপাট করেছে শত শত কোটি টাকা। আমি ব্যাপারগুলো আস্তে আস্তে শেখা শুরু করলাম। প্রায় পৌনে দুই বছর তাদের পর্যবেক্ষণ করলাম। ভয়ংকর রকম সব অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু করলাম। গ্রামীণফোন একটি ওয়েলকাম টিউন ডাউনলোড করতে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয় ত্রিশ টাকা এবং ১৫% ভ্যাট, টিউনটির মূল্য ১৫ টাকা অর্থাৎ প্রথমবার নিচ্ছে ৪৯ টাকা । গীতিকার সুরকার শিল্পী কোম্পানি মিলে পাবে এককালীন সাড়ে সাত টাকা, বাকিটা ওদের। প্রতিমাসে গ্রাহকদের চৌত্রিশ টাকার পুরোটাই নিচ্ছে গ্রামীণফোন। অর্থাৎ গানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই বানরের পিঠাভাগের মত বাধ্যতামূলক জিপির নিয়ম মেনে নিতে হচ্ছে। তার মধ্যে বিল দিবে এক বছরেরও পরে । শত শত শিল্পী কোম্পানির টাকা আটকে রেখে তারা ইন্টারেস্ট খাচ্ছে। ভাস ডিপার্টমেন্টে ঘন ঘন কর্মচারী বদল করে তারা একটা নাটক সাজিয়ে রাখে আমাদের হয়রানি করতে, যেটি এখনো অব্যাহত আছে। সাড়ে সাত টাকার জন্য শিল্পীরা গান তৈরি করবে, আর ওনারা সারাজীবন বসে বসে খাবেন। আমি সেই কর্মকর্তাকে বললাম, তোমরা তো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, প্রত্যূত্তরে সে বলল, আরো খারাপ, গ্রামীণফোন (টেলিনর) নরওয়ের কোম্পানি, ভাইকিংস। (নরওয়েজিয়ান জলদস্যূ )

Share.

Leave A Reply