নতুন করে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় হিরু ও হুমায়ুনের স্বজনেরা

0

তোহিদুল ইসলাম/জাহাঙ্গীর আলম: বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান পাওয়ায় নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন সাবেক সংসদ সদস্য লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু ও লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের পরিবারের সদস্যরা।

১৭ মাস পার হয়ে গেলও স্বামীর সন্ধান না পেয়ে পাগল প্রায় হুমায়ুন কবির পারভেজের স্ত্রী শাহনাজ বেগম। সাইফুল ইসলাম হিরুর একমাত্র ছেলে রাফসান ইসলাম জানালেন, বাবার অপেক্ষায় এখনও আছেন তিনি।

তারা বলছেন, একইভাবে হয়তো ফিরে আসতে পারেন তাদের প্রিয়জন। সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধানলাভে প্রিয়জনদের এমন হাহাকার একটু হলেও সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওই দুই নেতাকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগে করা মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কুমিল্লা জোনের এএসপি মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে খুঁজে বের করতে পুলিশ আন্তরিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। তাদের খোঁজ পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে।

র‌্যাব বলছে, দুই বিএনপি নেতাসহ নিখোঁজ সবার সন্ধানেই র‌্যাব তৎপর রয়েছে। তবে এখনও তাদের অবস্থান বা প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি।

২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর অপহরণের শিকার হন লাকসামের সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম হিরু। একই সঙ্গে অপহৃত হন লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন করিব পারভেজ।

এদিকে বিএনপির ওই দুই নেতাকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগে করা পাঁচ র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি এত দিনেও। তারেক সাঈদকে প্রধান আসামি করে র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা ওই মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চলতি মাসে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এর তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ মে রবিবার দুপুরে অপহৃত হুমায়ুন কবির পারভেজের বৃদ্ধ বাবা রঙ্গু মিয়া বাদী হয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় র‌্যাব-১১-এর বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া সাবেক অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন র‌্যাব-১১-এর তৎকালীন কুমিল্লা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কম্পানি-২-এর মেজর শাহেদ হাসান রাজীব, উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. শাহজাহান আলী, উপপরিদর্শক কাজী সুলতান আহমেদ ও উপপরিদর্শক অসিত কুমার রায়। আদালত তখন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য লাকসাম থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার হরিশ্চর এলাকা থেকে মো. সাইফুল ইসলাম হিরু, মো. হুমায়ুন কবির পারভেজ ও লাকসাম পৌর বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিনকে র‌্যাব আটক করে। পরে ওই রাতেই জসিম উদ্দিনকে লাকসাম থানায় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু হিরু-হুমায়ুনের খোঁজ মেলেনি আজও।

মামলায় র‌্যাব তাঁদের অপহরণ করে গুম করেছে বলে দাবি করা হয়। তবে গত বছরের ৩১ আগস্ট ছেলে হারানোর শোক নিয়েই চিরবিদায় নেন হুমায়ুনের বৃদ্ধ বাবা ও মামলার বাদী রঙ্গু মিয়। পরে নিহতের ছোট ছেলে গোলাম ফারুকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে ওই মামলার বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা ওই মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ১৫ অক্টোবর আদালতে দাখিল করে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদীপক্ষ বিএনপির দুই নেতাকে র‌্যাব অপহরণ করেছে বললেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা তাঁদের অপহরণ করে থাকতে পারে। তখন পুলিশের ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান মামলার বাদী।

বাদীপক্ষে ওই মামলার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন জানান, বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলাটি সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২০ মে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।

Share.

Leave A Reply