নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ৫ জনকে অব্যাহতি, বিউটির ক্ষোভ

0

বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ১৬ পৃষ্ঠার ওই চার্জশিটে ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে ১৬ জনকে।

এদিকে, নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির দায়ের করা মামলা থেকে একমাত্র নূর হোসেন ছাড়া বাকি পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলা বাদ।

সেলিনা ইসলামের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেন। অপর আসামিরা হলেন- ইয়াছিন মিয়া, হাসমত আলী হাসু, আমিনুল ইসলাম রাজু, আনোয়ার হোসেন ও ইকবাল হোসেন।

তবে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে দায়ের করা চার্জশিট থেকে ইয়াছিন মিয়া, হাসমত আলী হাসু, আমিনুল ইসলাম রাজু, আনোয়ার হোসেন ও ইকবাল হোসেনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সেলিনা ইসলাম বিউটি জানিয়েছেন, এজাহারভূক্ত পাঁচ আসামিকে অব্যাহিত দেয়ার বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নাম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠা ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন ১ মে আরও একজনের লাশ পাওয়া যায় নদীতে। অপহরণের পরপরই নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নাম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সাত খুনের দুটি মামলায় এ পর্যন্ত র‌্যাবের ১৭ জন সদস্যসহ মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, উপ-অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ র‌্যাবের ১৯ জন সদস্য রয়েছেন। বাকি ১১ জন মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ বা বেতনভুক্ত কর্মচারী। নূর হোসেন বর্তমানে কলকাতার একটি কারাগারে বন্দী।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করা হয়। অভিযোগ আছে, নূর হোসেনের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে তার প্রতিপক্ষকে খুন করেছে র‌্যাব। নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এ মামলাটি তদন্ত করছে। জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তদন্ত দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এক ভাগে অপহরণ ও হত্যা। এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন র‌্যাবের ১১ জন সদস্য। আর দ্বিতীয় ভাগে ছিল লাশ গুমের চেষ্টা। এখানে র‌্যাবের আটজন জড়িত ছিলেন। এর বাইরে ১৭ জন মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে র‌্যাবের ১২ জন। বাকি পাঁচজন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ নাগরিক। তিন কর্মকর্তার মধ্যে এম এম রানা শুধু অপহরণের সময় ছিলেন বলে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন। বাকি দুজন পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছিলেন বলে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন।

Share.

Leave A Reply