নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় স্বজনরা

0

পাচার ও উদ্ধার নিয়ে টেলিভিশনে খবর পড়লেই ছুটে আসেন মা চম্পা খাতুন। ফেলেন চোখের পানি। নিখোঁজ ছেলেকে জীবত অথবা মৃত দেখার আশা নিয়ে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পলুয়া গ্রামের এই নারী প্রায় ৮ মাস ধরে এভাবে চোখের পানি ফেলে চলেছেন।

চম্পা খাতুনের মতো এ জেলার কতো মা তার ছেলের জন্য কাঁদছেন তার সঠিক হিসেব নেই। তবে আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন স্বজনরা। তারা বিভিন্নভাবে নিখোঁজ সন্তানদের খোঁজ নিচ্ছেন। আশা করছেন হয়ত একদিন জীবত অথবা মৃত ফিরে পাবেন তাদের।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের একটি গ্রাম চাকলা। এই গ্রামের ১২ যুবকের প্রায় দু’বছর ধরে সন্ধান মেলেনি। দালালের খপ্পরে পড়ে তারা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য রওনা হয়। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের জঙ্গলে একাধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর তাদের পরিবারে শঙ্কা বেড়েছে।

এদিকে, শার্শার বারিপোতা, বোলদেদা, নারায়ণপুর, পানতাপাড়া ও শিকারপুরে ১৩ যুবক নদী পথে বিদেশে পাড়ি দিয়ে প্রায় দুই বছর নিখোঁজ রয়েছেন। তারা বেঁচে আছে না মরে গেছে জানে না পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় দালাল চান্দালীর ছেলে আকবার ও সামসুর রহমানের ছেলে শুকুর আলী কোনো টাকাছাড়াই বিদেশ নেয়ার প্রলোভন দেখালে বিত্তি বারিপোতার রবিউল ইসলামের ছেলে জামাল হোসেন, আয়ুব আলীর ছেলে মোহর আলী, মুজিবার রহমানের ছেলে মুনসুর আলী, নজরুল ইসলাম, বোলদেদাহ গ্রামের জাহান আলীর ছেলে মোকলেস আলী, শার্শা পানতাপাড়া গ্রামের আব্দল খালেকের ছেলে ইকলাস হোসেন, গঙ্গানন্দপুর গ্রামের সামাদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম, ইদ্রিস আলীর ছেলে মেহেদী হাসান, আতিয়ারের ছেলে রাসেল হোসেনসহ ১৩ যুবক আর ফিরে আসেনি।

নিখোঁজ নজরুল ইসলামের স্ত্রী শেফালি বেগম বলেন, ‘বাড়িতে ও মাঠে কাজ করে চলছে তাদের সংসার। স্বামীর আজও খোঁজ পায়নি। তবে তার জীবত অথবা মৃত ফিরে আসার অপেক্ষা করবো চিরদিন। এভাবে অসংখ্য যুবক নিখোঁজ থাকলেও চুপচাপ বসে আসে যশোরের জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান যশোরের সহকারী পরিচালক রাহেনুর রহমান জানান, এ অঞ্চলের কত জন যুবক বিদেশ যাওয়ার পথে নিখোঁজ রয়েছেন তার প্রকৃত তথ্য নেই তাদের।

সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, ‘অভিযোগ দিলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

অপরদিকে, গত ২১ মে মণিরামপুরে লিয়াকত আলী দফাদার নামে এক ব্যক্তি যশোর মানবপাচার প্রতিরোধ ও অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। পালিয়ে এসে তিনি এ মামলা করেন। মালয়েশিয়ায় চাকরি দেয়ার নামে থাইল্যান্ডে পাচারের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ আদলতের বিচারক অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দিয়েছেন।

Share.

Leave A Reply