পদত্যাগ করছেন লোটাস কামাল

0

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)’র প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের লোটাস কামাল। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার দুপুরে ঢাকায় ফিরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে অন্যায়ভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে আইসিসি’র প্রেসিডেন্টকে ট্রফি প্রদানের এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর আইসিসি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কূটকৌশলের মাধ্যমে এই অনৈতিক কাজটি করেন আইসিসি’র চেয়ারম্যান ক্রিকেটে আর্থিক দুর্নীতির দায়ে সপরিবারে সাজাপ্রাপ্ত ও ভারতীয় ক্রিকেটে আজীবন নিষিদ্ধ দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি এন শ্রীনিবাসন। এমনকি, সমস্ত আত্মসম্মানবোধকে উপেক্ষা করে সারা পৃথিবীকে হতবাক করে দিয়ে তিনি নিজেই মঞ্চে উঠে বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের হাতে ট্রফি তুলে দেন! অথচ সেই সময় মঞ্চে শ্রীনিবাসনের নাম ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে উপস্থিত দর্শকরা নানা ধরনের বিদ্রুপমূলক মন্তব্য ও অঙগুলি প্রদর্শন করে তাকে তিরস্কার জানান। এই ঘটনায় সারা বাংলাদেশের মানুষের মনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফাইনাল খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আইসিসি প্রেসিডেন্ট লোটাস কামাল নিজেও আইসিসির চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসনের এই ন্যক্কারজনক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং মিডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সারা পৃথিবী দেখলো আজ আমার সাথে কি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে আমার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। আইসিসি যে দুষ্ট চক্রের কবলে পড়েছে তাতে এদের হাত থেকে আইসিসিকে উদ্ধার করতে না পারলে ক্রিকেট এগুবে না। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থেই আমি এই দুষ্ট চক্রের মুখোশ সারা পৃথিবীর কাছে উন্মোচন করে দেব।” অভিযোগ রয়েছে, আইসিসি’র চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই শ্রীনিবাসন তার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে আইসিসিকে নানাভাবে ব্যবহার করতে থাকেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেটকে পুঁজি করে নানান আর্থিক দুর্নীতি আর অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অপরাধে ভারতেও অনেকের কাছেই একজন ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত শ্রীনিবাসন। স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগে, এইরকম একজন সাজাপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির হাতে আইসিসি’র মত আন্তর্জাতিক সংগঠনের পুরো কর্তৃত্ব চলে গেলে সেই সংগঠনের হাল কী হতে পারে? বাস্তবে হয়েছেও তাই। এবারের বিশ্বকাপে শ্রীনিবাসনের অশুভ ইঙ্গিতের ইশারায় ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে জোর করে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়া হয়। একজন বাংলাদেশী হিসেবে আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও নিজ দেশের বিরুদ্ধে এমন অন্যায় আচরণের প্রকাশ্য প্রতিবাদ জানান লোটাস কামাল এবং নাম উল্লেখ না করলেও এই অন্যায়ের কুশীলব হিসেবে আইসিসি চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসনের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন তিনি। সেদিন থেকেই আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শ্রীনি এবং কূটকৌশল আঁটেন, ফাইনালে আইসিসি প্রেসিডেন্টকে পুরস্কার প্রদানের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার। একজন দুর্নীতিবাজ ভারতীয় কর্তৃক অন্যায় ও অবৈধভাবে বাংলাদেশকে এভাবে অপমান করার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীরা। আইসিসি প্রেসিডেন্ট হয়েও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে আইসিসি’রই অন্যায় কার্যক্রমের জোরালো প্রতিবাদ করায় লোটাস কামালের পাশে কৃতজ্ঞচিত্তে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জনগণ। তবে দেশের মানুষের মনে-প্রাণে প্রত্যাশা, যেন আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট পদ থেকে দ্রুত পদত্যাগ করে লোটাস কামাল তার ঘোষণা অনুযায়ী শ্রীনিবাসনের সকল অনৈতিক কর্মকা-ের ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালের আগের দিন সন্ধ্যায় শ্রীনিবাসন সরাসরি কথা বলেন লোটাস কামালের সাথে এবং তাকে পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ করেন বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ শেষে তার দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য। শ্রীনিবাসন এমন প্রস্তাবও দেন যে, তিনি (লোটাস কামাল) যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন এবং আইসিসি’র পরবর্তী সভায় লিখিতভাবে এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাখ্যা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে তাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রফি প্রদান করতে দেয়া হবে। শ্রীনিবাসনের এই প্রস্তাবে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে লোটাস কামাল শ্রীনিবাসনের মুখের উপরই জবাব দিয়ে বলেন, “তুমি নিজেকে কি মনে কর? আমি সেদিন বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে যা বলেছি তা সম্পূর্ণরূপে ক্রিকেটের এবং আইসিসি’র বৃহত্তর স্বার্থেই বলেছি। হতে পারি আমি আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট, কিন্তু আমার কাছে সবার আগে আমার দেশ, আমার দেশের মানুষ এবং ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ। সারা পৃথিবীর মানুষ সেদিন দেখেছে আইসিসি কতটা পক্ষপাতদুষ্ট এবং কিভাবে অন্যায় করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে। আমি মনে করি, আইসিসি এখানে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে ক্রিকেটের স্বার্থ সংরক্ষণে। তাই আমি আমার বক্তব্য থেকে একচুলও নড়বো না, নড়ার প্রশ্নই আসেনা।”

Share.

Leave A Reply