প্রথমবার অংশ নিয়েই চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

0

 

শেষ ১ বলে প্রয়োজন ছিল এক রান। কিন্তু অলক কাপালি মো. সামির বলটি কভারে হাঁকিয়ে ছুটলেন। দুই ব্যাটসম্যানের স্থান পরিবর্তন হতেই উল্লাসে মাঠে ঢুকে পড়লো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ক্রিকেটার-কর্মকর্তারা। বিআরবি-বিপিএলের তৃতীয় আসরের দুই সেমিফাইনাল ছিল একপেশে। কিন্তু ফাইনালে মিলল টি-২০এর আসল উত্তেজনা। শেষ বলে জয় তুলে নেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্রতিশোধের আগুন জ্জ্বেলেও হেরে গেল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বরিশাল বুলস। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শাহরিয়ার নাফীস ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অধিনায়কোচিত ব্যাটিং ১৫৭ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় বরিশাল বুলস। আর সেই টার্গেট তাড়া করে জয় তুলে নেয় ভিক্টোরিয়ান্স। জবাব দিতে নেমে শিরোপা জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। শেষ ম্যাচে ৩৭ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটা খেলেন তিনি। ৩৮ রান থেকে পরপর দুই ছয়ের মারে ফিফটি পুরণ করা ইমরুল শেষ পর্যন্ত ৩টি ছয় ও ৬টি চারে মার হাঁকান আউট হওয়ার আগে। দেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিপিএলের এ আসরে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১২ রানের মালিক। তার দেখানো জয়ের পথে ২৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের এক দারুণ ইনিংসে দলকে শিরোপা উপহার দেন অলক কাপালি। পুরো আসরে নিস্প্রভ অলক কাপালি হয়েছেন ম্যাচসেরা ও বিপিএলের টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন পাকিস্তানের আসহার জাইদি। এই জয়ে বিপিএলের তিন আসরেরই চ্যাম্পিয়ান অধিনায়ক হলেন মাশরাফি।
১৫৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে ২৩ রানেই লিটন বিদায়  নেয়ার পর দলের হাল ধরেন ইমরুল ও আহমেদ শেহজাদ। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়েন এই দু’জন। ফিফটি হঁকিয়ে ইমরুল আউট হওয়ার কিছুক্ষ অড়াই করেন আসাহার জাইদি ও শেহাজাদ। কিন্ত ১৬ রান করা জাইদি রান আউট হয়ে ফিরলে শেহজাদকে নিয়ে  দলের হাল ধরেন অলকপালি। তাকে সঙ্গদিতে এসে স্টিভেন্স ৮, অধিনায়ক মাশরাফি ০ রান করে ফিরে যায়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। দলের যখন  শেষ ওভারে ৬ বলে ১২ রান প্রয়োজন তখন  মো. সামির প্রথম বলেই রান আউট হন শুভাগত হোম। তার বিদায়ে বরিশাল যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ঠিক তখনই সেই স্বপ্ন ছিনিয়ে নেন আলক। কুলাসেকারা সামির দ্বিতীয় বলে ১ রান নিয়ে স্থান পরিবর্তন হতেই কাপালি মিড উইকেট দিয়ে হাঁকান চারের মার। তখন প্রয়োজন ছিল ৩ বলে ৭ রান। চতুর্থ বলে আবারও চারের মার ওভার ব্যাকওয়ার্ড দিয়ে। ভিক্টোরিয়ান্সদের শিরোপার জন্য তখন ২ বলে প্রয়োজন ৩ রান। সামির ৫ম বলটি কভার দিয়ে ঠেলে দুই রানের জন্য ছুটেন কাপালি। তখন শিরেপার ভাগ সমানে সামন। কিন্তু ১ বলে এক রানই নিলেই তা চলে যাবে কুমিল্লার ঘরে। শেষ পর্যন্ত কাপালি সেটি কুমিল্লার ঘরেই পৌছে দিয়েছেন।
এর আগে বলা হচ্ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের প্রতিশোধের ম্যাচ। কিন্তু  খেলোয়াড়রা ক্রিকেটে প্রতিশোধ শদ্বটাকে খুব এক ভাল ভাবে নেননা। তবে মাঠের লাড়ায়ে ঠিক বুঝিয়ে দেন ব্যাট কিংবা বল হাতে। গতকাল বিপিএলের ফাইনালে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিংয়েও প্রতিশোধ আচ করা যায়। শেষ বিপিএলের ফাইনালে মাশরাফি বিন মুর্তজার ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের কাছে হেরেছিল তার চিটাগাং কিংস। চলতি আসরে দুই জনের দলের নাম ভিন্ন হলো অধিনায়ক হিসেবে আবারও মুখোমুখি  ফাইনালে দু’জন। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়েছিল বরিশাল বুলস। সেই সময় ১১তম ওভারে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু প্রথম ১৫ বলে ৯ রান নিলেও মাশরাফির বল হাতে আসতেই যেন পালটে যান তিনি। মাশরাফির দ্বিতীয় বলে ৪, তৃতীয় বলে ৬ ও শেষ বলেও চারের মার হাঁকান রিয়াদ। মাশরাফির ওভার থেকেই আদায় করেন ১৫টি রান। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৪৮ রানের অধিনাকচিত ইনিংস খেলেন। হাঁকান ৬টি চার ও একটি ছয়ের মার। তাকে দারুন ভাবে সঙ্গ দেন শাহরিয়ার নাফীস। চতুর্থ উইকেটে গড়ে তোলেন ৮১ রানের জুটি। নাফীস ২টি চার ৩টি ছয়ের মারে শেষ পর্যন্ত ৪৪ রানে অপরাজিত থাকলেও আউট মাহমুদুল্লাহ। অবশ্য ততোক্ষনে দলের স্কোর বোর্ডে জামা পড়েছে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানের লড়াকু পুঁজি। অবশ্য মাহমুদুল্লাহর এই ইনিংসটাও খুঁজে পাওয়া যায় প্রতিশোধের ছায়া। কারণ শেষ বিপিএলের ফাইনালে তার ব্যাটে ঝড় ওঠেছিল। মাত্র ২৮ বলে করেছিল ৪৪ রান। কিন্তু তার সেই আবদানে দলের হার এড়াতে পারেনি।
শুরুতেই অবশ্য রনি তালুকদারে পরিবর্তে সিকুগে প্রসন্নর সঙ্গে বরিশালের ইনিংস উদ্বোধন করেন মেহেদি মারুফ। আশার জাইদিকে স্লগ সুইপ করে ছক্কা হাকালেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। পরের বলেই পুল করতে গিয়ে এলবিডবিলউ হয়ে ফিরে যান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। মারুফ ফিরে গেলেও দলকে এগিয়ে নেন প্রসন্ন। ১৯ বলে দুটি করে ছক্কা-চারে গড়া তার ৩৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস শেষ হয় ড্যারেন স্টিভেন্সের বলে বোল্ড হয়ে।  বরিশালের আগের দুই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সাব্বির রহমান এবার দুই অবশ্য দলের ভরসার প্রতিক হতে পারেননি। ব্যাট করতে নেমে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি গতকাল। ১৯ বলে ৯ রান করে মাশরাফির বলে বোল্ড হয়ে যান এই তরুণ। আসাহার জাইদি, মাশরাফি, স্টিভেন্স, কুলাসেকেরা একটি কর্ েউইকেট পেলে কুমিল্লার চমক তরুণ আবু হায়দার রনি ফাইনালে এসে একটি উইকেটও পাননি। ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৫টি রান। এর আগে ১১ ম্যাচে তার শিকার ছিল বিপিএলে সর্বোচ্চ ২১টি উইকেট।

Share.

Leave A Reply