বিএনপির কাছে ১০০ আসনের চুক্তি চায় জামায়াত

0

সামনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেই নির্বাচনে বিএনপির কাছে ১০০ আসনে এখনই চুক্তি চায় জামায়াত। জোটগত নির্বাচনে জামায়াতকে ১০০ আসন ছাড়ার চুক্তি করলেই কেবল তারা বিএনপির সঙ্গে সরকার পতন আন্দোলনে মরণকামড় দিতে রাজি। না হয় আন্দোলনে নামতে নারাজ। কারণ তাদের দুঃসময় আর দাবির সঙ্গে বিএনপি নামেনি রাজপথে। তাই এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জামায়াত।সূত্র জানায়, হিসাব ছাড়া জামায়াত বিএনপির সঙ্গে আর এক পা-ও অগ্রসর হতে চায় না। তাদের বক্তব্য, জামায়াত কর্মীরা জীবন দেবে, মামলা খাবে আর বিএনপি ক্ষমতায় যাবে এটা মানতে নারাজ। হিসাব পাকা না করে আর ঝুঁকি নিতে চায় না দলটি।

জামায়াত সূত্র জানায়, সর্বশেষ বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের বৈঠকে খালেদা জিয়া নির্বাচনের জন্য জামায়াতকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। বৈঠকে জামায়াত ১০০ আসন দাবি করেছে জোট প্রধানের কাছে। কিন্তু খালেদা জিয়া এ প্রস্তাবে সায় দেননি। বৈঠকে জামায়াত নেতারা খালেদা জিয়াকে বলেন, শর্ত মানলে আমরা আরেকটি ঢাকা অবরোধের ডাক দিয়ে সরকারের পতনের আন্দোলনে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। এ সময় জামায়াতের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সারা দেশে বিএনপির খুঁড়িয়ে চলা অবস্থা তুলে ধরেন। এখনই আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতের গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হিসেবে কর্মপরিষদের এক সদস্য জানান, দলের সর্বোচ্চ ফোরাম নির্বাহী পরিষদের ২০ জনের ছয়জন কারাগারে। বাকিদের মধ্যে ১২ জন একাধিক মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে। সারা দেশে ছয় হাজার মামলায় দলের লক্ষাধিক নেতাকর্মী আসামি। জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের ২৩ সদস্যের তিনজন মৃত। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পাঁচজন কারাগারে। বাকি ১৫ জনের ১২ জনই বিভিন্ন সহিংসতার মামলার আসামি। ৩৬ উপজেলা চেয়ারম্যানের ১৮ জন কারাগারে। এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের জন্য নেতারা তাদের আসনে নির্বাচনে নিশ্চিত না হলে তাদের সরকার পতনের আন্দোলনে আনা যাবে না।

জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা জানান, আমরা জীবন দিয়ে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হলেও ফল ভোগ করবে বিএনপি। নির্বাচনের সময় জোটগতভাবে ১৫ থেকে ২০টি আসনের বেশি ছাড় দেবে না। তাই আসনের বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কঠোর আন্দোলনে নামতে পারি না। তাছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিএনপিকে পাশে না পাওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ জামায়াত নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, একের পর এক রায় হচ্ছে কিন্তু বিএনপি এ নিয়ে একটি বিবৃতিও দিচ্ছে না। তাই দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল ২০ দলের হরতালে জামায়াত মাঠে নামেনি। নেতাকর্মীরা বলছেন, জোটে থাকা না থাকা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করা, দলকে নিষিদ্ধ করা থেকে রক্ষা একমাত্র টার্গেট। রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত তারা।

এদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড রায়ের পরিবর্তে আপিল বিভাগ আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণার পর থেকেই সরকারের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতা হয়েছে কিনা এ নিয়ে ঢালপালা গজাচ্ছে। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তারা বলছেন, এটি এখন স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু বলা ঠিক হবে না। বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজে শ্লথগতি, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসি থেকে চূড়ান্ত রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড, জামায়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় বারবার পেছানো, জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর জামিন, ৪৮ ঘণ্টার হরতালে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে পুলিশের নমনীয় ভূমিকা সরকারের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতারই ফল। তারা বলছেন, ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের হাত ধরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে গত ৩১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য নওশের আলী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। হানিফের নির্বাচনী জনসভায় প্রকাশ্যে যোগদানের ঘোষণা দেন তিনি? এই জামায়াত নেতা কুষ্টিয়া মোটরযান শ্রমিকদেরও নেতা? একইভাবে পাবনার আতাইকুলা ইউনিয়ন শাখা জামায়াতের নায়েবে আমির রাজ্জাক হোসেন রাজার নেতৃত্বে জামায়াতের দুই শতাধিক স্থানীয় নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন? কুষ্টিয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের উপস্থিতিতে তারা যোগ দেন? স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী কেউ নেই, তাই তাদের যোগদানে আপত্তি করা হয়নি?

২০ দলীয় জোটের শরিক বিভিন্ন দলের কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারাও এই সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কথা জানান। তারা বলেন, জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির আগে থেকেই সন্দেহ ছিল। তাদের নেতাদের বাঁচানোর জন্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন- এমন কথা শোনা গিয়েছিল। আবার জামায়াতের মধ্যেও বিএনপিকে নিয়ে অনাস্থা রয়েছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, জামায়াত সরকারের সঙ্গে আপস ও আঁতাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সরকারের সমর্থক কিছু সংবাদপত্র ও মিডিয়া সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাতের কথা প্রচার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়।জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ জানায়, সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা করে চলেছে বিএনপির একটি অংশ। তারা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে গ্রেফতার এড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছেন। এমন নেতা দিয়ে সরকার পতন সম্ভব না। সরকারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে জামায়াতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের নেতাদের মুক্তির আন্দোলনে বিএনপি চুপচাপ। আপাতত সংগঠনকে শক্তিশালী করছি। বিএনপি ১০০ আসনের নিশ্চয়তা দিলে সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলন, নইলে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে যত ধরনের ছাড় দেওয়া দরকার জামায়াত সবই করবে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share.

Leave A Reply