বিয়ের পিঁড়িতে রেলমন্ত্রী!

0

৬৭ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন কুমিল্লার আলোচিত রাজনৈতিক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। কনে হনুফা আক্তার রিক্তাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করলেন রেলমন্ত্রী। সই করলেন কাবিননামায়। আর বিয়ের আসরেই পরিশোধ করলেন কাবিনের ৫ লাখ ১ টাকা।
শুক্রবার ঘড়ির কাঁটা তখন ৩টা ১৭ মিনিট ছুঁয়েছে। জীবনের সাতষট্টি বছর পার করা চির তরুণ রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক সই করলেন কাবিননামায়। বাঁধা পড়লেন তরুণী হনুফা আক্তার রিক্তার বিনি সূতোর বন্ধনে।
বিয়ের আসরে মুগ্ধতার আবেশে বুঁদ হয়ে থাকা বর রেলমন্ত্রীকে দেখে সবার মনেই ছিল আনন্দের ঢেউ। এর আগেই বরকে অভ্যর্থনা জানাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল তরুণীরা।
সবকিছুই ছিল প্রস্তুত। গেট সাজানো হয়েছিল ফুলে ফুলে। বিকেল ৩টার দিকে প্রায় সাতশ’ বরযাত্রী নিয়ে বিশাল বহর পৌঁছে যায় কনের বাড়িতে। গেটে আসতেই জামাইকে ঘিরে ধরতে দেখা গেছে কয়েকজন শ্যালিকাকেও। তারা স্বাগত জানিয়ে বর নিয়ে আসেন বিয়ে মঞ্চে।
রেলমন্ত্রী বিয়ে পড়ান কাজী সিদ্দিকুর রহমান। উকিল বাবার দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত হাসেম চৌধুরী। বিয়েতে বরের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন কিবরিয়া মজুমদার। আর কনে পক্ষে ছিলেন খোকন রেজা ও ফজলুল করিম।
মন্ত্রীর বিয়ের ‘এলাহীকাণ্ড’ আয়োজন চলছিল কয়েকদিন ধরে। বর পক্ষে অতিথিদের আপ্যায়নে সক্রিয় ছিল প্রায় একশ’ স্বেচ্ছাসেবক। বরপক্ষে হাজার খানেক আর কনে পক্ষে দেড় হাজার অতিথির হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু তা ছাড়িয়ে যায় কয়েক গুন।
বিকেল ৩টার দিকে পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে চান্দিনার প্রত্যন্ত গ্রাম মিরাখলায় বিয়ে বাড়িতে পৌঁছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।
কুমিল্লার কয়েকজন সংসদ সদস্য, সাবেক ডেপুটি স্পিকার, পুলিশের ডিআইজি, আওয়ামী লীগ নেতসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিয়েতে অংশ নেন।
অন্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু এমপি, চান্দিনা আসনের এমপি সাবেক ডেপুটি স্পিকার আলী আশরাফ, লাকসাম আসনের এমপি তাজুল ইসলাম, বরুড়ার সাবেক এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব ওমর ফারুক, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাছানুজ্জামান কল্লোল, কুমিল্লার পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান, কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক আফজল খান, তরুন আওয়ামীলীগ নেতা নুর-উর-রহমান মাহমুদ তানিম প্রমুখ।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয় কনে হনুফা আক্তার রিক্তার নিজ বাড়ি চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের মিরাখলা গ্রামের মুন্সী বাড়িতে।
রেলমন্ত্রীবিয়ে বাড়িতে ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজে নিয়োজিত ছিল ছয় স্তরের নিরাপত্তা বাহিনী। সেগুলোর মধ্যে বিশেষ ডিউটি পুলিশ, পুলিশের মোবাইল টিম, ডিএসবি, ট্রাফিক পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদা পোশাকের কমপক্ষে ৬০-৭০জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে পালন করছেন।
অতিথিদের খাবারের তালিকায় ছিল মুরগির রোস্ট, খাশির কাচ্চি, কোমল পানীয়, মিস্টান্ন, জর্দা এবং বোরহানী। বর জামাইয়ের জন্য ছিল বিশেষ খাবার। ছিল ১৬ কেজি ওজনের আস্ত খাশির রোস্ট।

Share.

Leave A Reply