বিয়ের বয়স ছেলেদের ১৮ এবং মেয়েদের ১৬ বছরের পক্ষে আসিফ নজরুল

0

বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের বয়স কমানোর বিষয়ে সরকার যে চিন্তা-ভাবনা করছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, “এ দেশের সমাজব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে এটি সংগতিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। আমরা সব ক্ষেত্রে মেয়েদের পিছিয়ে রেখে, শুধু বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে রেখে লাভ কী।”

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরো ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী।

সংলাপের এ পর্বে চতুর্থ প্রশ্ন ছিল- বিয়ের বয়স কমিয়ে ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৮ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৬ বছর করার যে চিন্তা-ভাবনা সরকার করছে, তাকে স্বাগত জানানো উচিত বলে আপনারা মনে করেন কি?

এ প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল আরো বলেন, “আমি সকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এটা বাস্তবতার নিরিখেই করা হয়েছে। কারণ গ্রামে যান, সেখানে দেখেন কতজন মেয়ের বয়স মেনে বিয়ে দেয়া হচ্ছে।”

তবে আসিফ নজরুলের সঙ্গে দ্বিতম পোষণ করে নুজহাত চৌধুরী বলেন, “আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর থাকলে সমস্যা কী? যদিও আমি একজন ডাক্তার হিসেবে বলছি না যে ১৬ বছর হলেই সমস্যা হয়ে যাবে, তবে আমাদের দেশে এমনিতেই বাল্যবিবাহ ও বাল্যাবস্থায় গর্ভধারণের হার কমাতে পারছি না।”

মাহবুবুর রহমান বলেন, “বয়স বাড়ানো-কমানো কোনো ব্যাপার না। মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করার দিকে অধিক মনোযোগী হওয়া উচিত।”

তবে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ রেখে এবং নারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান রাশেদ খান মেনন। তবে তিনি মনে করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সঠিক।

এর আগে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের তৃতীয় প্রশ্ন ছিল- সম্প্রতি বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর পাঁচজনের সনদ বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি বিষয়কে ব্যবহার করে যারা সুবিধা নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া উচিত?

রাশেদ খান মেনন বলেন, “এ ব্যাপারে দুদক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এর বিরুদ্ধে উদাহরণ সৃষ্টি করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরো ঘটবে এমন ঘটনা।”

আসিফ নজরুল বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই এমন রং পাল্টানোর ঘটনা অনেক ঘটেছে। এদের চাকুরিচ্যুত করে জেলে পাঠানো উচিত।”

মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটা দেশদ্রোহের মতো অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। ”

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

Share.

Leave A Reply