মালয়েশিয়ায় পুঁতে রাখা মরদেহ উত্তোলন শুরু

0

মালয়েশিয়ার পুলিশের ফরেনসিক টিম থাইল্যান্ড সীমান্তের গহীন অরণ্যে আবিস্কৃত গণকবর থেকে সন্দেহভাজন মানবপাচারকারীদের পুঁতে রাখা মরদেহ উত্তোলন শুরু করেছে।

এসব মরদেহ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ নিড়ানি ও কোঁদাল দিয়ে মঙ্গলবার মরদেহ উত্তোলন শুরু করে।

থাইল্যান্ড মানব পাচারের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরুর পর পাচারকারীরা গত দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এসব গণকবর রেখে পালিয়ে গেছে।

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে এবং মালয়েশিয়ার উত্তরাংশের গভীর অরণ্যে এসব গণকবরের অবস্থান।

মঙ্গলবার মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ একদল সাংবাদিককে একটি বন্দীশিবির পরিদর্শনে নিয়ে যায়। নিকটবর্তী রাস্তা থেকে এক ঘণ্টা হেঁটে সেখানে পৌঁছাতে হয়।

দেখা যায় বাঁশের খুঁটি ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি পরিত্যক্ত একটি গণকবর। এখানে ৪০০ জনের লাশ থাকতে পারে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

মালয়েশিয়া সরকার সোমবার জানায় যে তারা উত্তরাঞ্চলীয় পার্লিস রাজ্যের সীমান্তের ৩০ মাইল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১৩৯টি গণকবর এবং ২৮টি বন্দীশিবিরের সন্ধান পেয়েছেন।

মরদেহের বস্তা

রয়টার্সের সাংবাদিকরা মঙ্গলবার ওই শিবির পরিদর্শনকালে বিশাল প্লাস্টিকের পানির ট্যাঙ্ক দেখতে পান, যাতে মনে হয় যে সেখানে মোটামুটি স্থায়ী ব্যবস্থাই ছিল। পার্শ্ববর্তী জনবসতি থেকে ভেসে আসছিল আজানের ধ্বনি।

এই স্থানে ৩৭টি মরদেহ পাওয়া গেছে বলে জানান একজন কর্মকর্তা। এটি থাই সীমান্ত থেকে কয়েকশ’ মিটার দূরে অবস্থিত।

পুলিশ খোড়াখুড়ি শুরু করার আগেই এখানে বিপুল পরিমাণ মরদেহ রাখার ব্যাগ ও তুলার কাফন এনে জড়ো করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতি বছর হাজার হাজার নিপীড়িত রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়া পৌঁছানোর কথা বলে থাই সীমান্তে জড়ো করা হতো। তারপর মুক্তিপণের জন্য চলত নির্যাতন।

সাধারণ প্রতিটি বন্দীর কাছ থেকে ১২০০-১৮০০ ডলার আদায় করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় মালয়েশীয় পুলিশ একটি শিবিরের একটি ঝুপড়ি থেকে একটি গলিত মরদেহ সরিয়ে ফেলে। পুলিশ জানায় দুই-তিন সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ প্রধান রিজানি চে ইসমাইল বলেন, পাচারকারী সিন্ডিকেটর লোকজন তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে হয়তো মরদেহটি পুঁতে রাখার সময় পায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

Share.

Leave A Reply