মিশরের স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাথে একই টেবিলে বসার ব্যবস্থা প্রস্তাব নাকচ এরদোগানের

0

মিশরের স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাথে একই টেবিলে বসার ব্যবস্থা করায় জাতিসংঘের সমালোচনা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগান তার সাথে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের দেয়া এক মধ্যাহ্নভোজে সিসির সাথে একই টেবিলে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তবে একথা জানতে পেরে ওই ভোজে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন মিশরে উর্দি শাসনের কড়া সমালোচক এরদোগান।

তুরস্কের এনটিভি জানায়, ওই একই টেবিলে আরো বসার ব্যবস্থা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বান কি-মুন ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার।

সিসি ও এরদোগানের মধ্যে বসার ব্যবস্থা ছিল জুমার।

এরদোগান বলেছেন, জাতিসংঘ ইচ্ছাকৃতভাবে নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছে তা স্পষ্ট নয়। তবে জাতিসংঘের মাধ্যমে সিসিকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির ক্ষমতাগ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সাবেক সেনাপ্রধান সিসি।

এরপর চলতি বছর মে মাসে ভোটারবিহীন প্রহসনের এক নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।

গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে সিসির ক্ষমতাগ্রহণ ও তাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টার কঠোর সমালোচনা করেন মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা এরদোগান।

এরদোগান বলেন, ‘জাতিসংঘের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক দেশগুলোও মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উৎখাত এবং নিজেদের পছন্দকে রক্ষার সচেষ্ট হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষের হত্যাযজ্ঞকে নীরব দর্শক হয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করেনি।’

সিসিরি দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই ক্যু সংঘটিত করলো তাকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে।’

ভাষণে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক নেতা এরদোগান বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চাই তবে আসুন ব্যালট বাক্সকে শ্রদ্ধা জানাই। গণতন্ত্র ছাড়া যারা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে, আমরা যদি তাদের পক্ষ নেই তবে এ জাতিসংঘের অস্তিত্ব নিয়ে আমার বিস্ময় জাগে।’

এরদোগান বলেন, নিরাপরাধ মানুষকে হত্যার পর জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তা এবং সেনা অভ্যুত্থান জনগণের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাসের সৃষ্টি করছে এবং অনেককে সন্ত্রাসবাদী কমকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শিশু, নিরাপরাধ নারীদের গণহত্যা এবং অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যারা নীরব থাকেন প্রকারান্তরে তারা ওইসব অপরাধেই অংশগ্রহণ করেন।’

Share.

Leave A Reply