মিয়ানমারে মুসলিম হত্যায় ইন্ধন দিচ্ছে চরমপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা

0

আশিন উইরাথ মিয়ানমারের এক প্রভাবমালী বৌদ্ধ ভিক্ষু। অতীত পাপ মোচনের জন্য প্রার্থনা করলেন তিনি। এরপর সমবেত হাজার ভক্তদের উদ্দেশে ধর্মোপদেশ দেয়া শুরু করলেন। ধর্মোপদেশে দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উৎখাতে দিক-নির্দেশনা দিলেন তিনি। ভক্তদের তিনি বললেন-‘তোমরা দয়া আর ভালোবাসায় পূর্ণ থাকতে পারো, কিন্তু পাগলা কুকুরের পাশে ঘুমাতে পারো না’। তার মতে, এই পাগলা কুকুর বলতে তার দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের বুঝিয়েছেন। এভাবেই মিয়ানমারে বর্তমান চলা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে উসকে দিচ্ছেন চরমপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।

হেরাল্ড ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সহিংসতায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনেও একই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে ‘মিয়ানমারের বৌদ্ধদের মধ্যে চরমপন্থা বাড়ছে’ ও হেরাল্ড ট্রিবিউন ‘মিয়ানমারের এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর উত্তেজিত হওয়ার ডাক’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

দুই ঘণ্টা ধর্মোপদেশ দেয়ার পর ওই বৌদ্ধ ভিক্ষু এক সাংবাদিককে তিনি বলেন, “আমি তাদের সমস্যা সৃষ্টিকারী বলি কেননা তারা সমস্যা সৃষ্টিকারী। আমাকে উগ্রপন্থী বলায় আমি গর্বিত বোধ করি’। বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধদের সহিঞ্চুতা নিয়ে যে ইতিবাচক ধরণা মানুষের আছে তার কোনো লক্ষণ নেই আশিনের মতো চরমপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের। ধ্যানে মগ্ন থাকার চেয়ে অস্ত্রবহন আর বিষোদগার আর উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়াতেই ব্যস্ত তারা। অর্থ্যাৎ মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞের পুরোহিত যে ভিক্ষুরা তা নিঃসন্দেহ।”

প্রতিবদনে উঠে এসেছে, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ২০০ জনেরও বেশি মুসলমানকে হত্যা করেছে। আর দেড় লক্ষাধিক মুসলমানকে বাস্তুচ্যুত করেছে। দেশব্যাপী উগ্রবাদী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ধর্মোপদেশ সংবলিত বক্তব্য ডিভিডি আকারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে। মুসলমানদের তৈরি জিনিস ও পণ্য বয়কটের আহ্বান জানানো হচ্ছে নিয়মিত ধর্মোপদেশে। সহিংসতাকে জোরদার করতে কমিউনিটি সেন্টার খোলা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ৬০ হাজারেরও বেশি বৌদ্ধ শিশুকে নিয়ে রোববারের স্কুল কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ‘সানডে ধর্ম স্কুল’ নামের কর্মসূচিতে শিশুদের মনে গেঁথে দেয়া হচ্ছে তীব্র মুসলমান বিদ্বেষী ধারণা। সামরিক রাষ্ট্র থেকে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় প্রবেশ করলেও সাম্প্রদায়িক হিংসার জন্যে বিশ্বব্যাপী মিয়ানমারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং এশিয় অঞ্চলে প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মিয়ানমারবিরোধী মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অসামরিক সরকার প্রচলিত মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছেন অশিন ভিরাখু। এর আগে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার কারণে আট বছর জেলে থাকতে হয়েছিল অশিনকে। নতুন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দীদের সঙ্গে সম্প্রতি তিনিও মুক্তি পান। সম্প্রতি ধর্মোপদেশে গত মার্চে মেইকতিলা শহরে স্কুলশিশু ও অন্যান্য মুসলমান বসতিতে গণহত্যাকে ‘শক্তি প্রদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেন অশিন। একটি মানবাধিকার সংস্থা ওইসব গণহত্যার অভিযোগ করেছে। অশিন বলেন,‘যদি আমরা দূর্রল হই আমাদের ভূমি মুসলমানদের হবে’।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের প্রতি ১০ জনের ৯ জন বৌদ্ধ। দেশটির প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৪ থেকে ৮ শতাংশ মুসলমান। বাদবাকি হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মালম্বী। নিজেকে জাতীয়তাবাদী হিসেবে দাবিকারী অশিন বলেন, ‘মিয়ানমারের বৌদ্ধরা মুসলিমদের অধীনে হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি দাবি করেন, বৌদ্ধদের থেকে মুসলমানদের বেশি সন্তান নিচ্ছে এবং বৌদ্ধদের সম্পত্তি কিনে নিচ্ছে।’ মুসলিম বিরোধী আন্দোলনের একটি ‘থিম সং’ তৈরি করেছেন অশিন। গানের সারবত্তা হচ্ছে, ‘যারা আমাদের দেশে বাস করে, আমাদের পানি পান করে, তারা আমাদের প্রতি অকৃতজ্ঞ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের বৌদ্ধ ভিক্ষু থেকে মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন তিনি।–ওয়েবসাইট।

নতুন বার্তা/এমবি/জবা

Share.

Leave A Reply