মুসলিমদের মাথায় লবন রেখে জলপাই খায় কে?

0

কামাল আহমাদ: মুসলমানদের ঈমানকে ধ্বংস করার জন্য নাস্তিকগন আজ উঠে পড়ে লেগেছে। তবুও মুসলমানের সন্তানরা তাদের সংগ ত্যাগ করেনা। তাদেরকে যেন একেবারে কলিজার সাথে আকিঁড়ে রেখেছে। অথচ মহান আল্লাহ বলেন: মুমিনরা যেন কোন মুমিনকে বাদ দিয়ে কাফেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহন না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন স¤পর্ক নেই”(সুরা ইমরান ২৮)। মুসলমানের সন্তান হয়ে কাজ করছে আল্লাহর নির্দেশের উল্টাটা। বর্তমানে হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী-খৃষ্টানদের ধর্মীয় উৎসবে যদি মুসলমানের সন্তানরা না যায় তাহলে তাদের ফেসটিবল তথা উৎসবই যেন হয় না। ইহুদী-খৃষ্টানদের কালচার গুলো আজ মুসলমানদের ঘরে ঘরে। না হয় মুসলামানের ঘরে কি করে ছবি-মুর্তি থাকতে পারে। মুসলমানের সৌকেছে কি করে হরিণের, মাছের, হাতির মুর্তি থাকতে পারে? অথচ রাসুল (ছা:) বলেছেন: “যে ঘরে ছবি-মুর্তি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেনা”(বুখারী, মিশকাত হা/৪৪৮৯)। অন্যত্র রাসুল (ছা:) বলেছেন: “যে ব্যক্তি যে কাওমের সাথে (ধর্মীয়) সম্পর্ক রাখে ক্বিয়ামতের মাঠে তাকে তাদের সাথেই উঠানো হবে (আবু দাউদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)। ভেবে দেখা উচিৎ কেন আজ মুসলমানের সন্তানদের ইসলাম শিক্ষা সাবজেক্টটি স্কুলের লাষ্ট পরিউিডে হয়? এ সবজেক্টটের প্রতি এত অবহেলা কেন? বিগত দিনে দেখেছি ইসলাম শিক্ষা সাবজেক্টটি ছিল ঐচ্ছিক সাবজেক্ট। যার ইচ্ছা সে এই সাবজেক্ট পছন্দ করতো। ইসলাম শিক্ষা সাবজেক্টটিতে ছাত্ররা তেমন ক্লাস করেনা অথচ এটা কোন রকম লিখলেই লেটার মার্ক পাওয়া যায়। তাই ছাত্ররা এই সাবজেক্টটিকে ইংরেজির মত তেমন মূল্যায়ন করেনা। কেন ইসলাম শিক্ষা সবজেক্টটির প্রতি এত অবহেলা? হ্যা, ইংরেজদের তৈরী করা সে সিলিবাস আমরা আজো পরিবর্তন করতে পারি নাই। মাদ্রাসার সিলিবাসে ‘উছুলে হাদীছ’ সাবজেক্টটিও লাস্ট পিরিউিডে। পবিত্র কোরআনকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে অবশ্যই রাসুল (ছা:) এর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি তথা ছহীহ হাদীছ জানতে হবে। রাসুল (ছা:) এর মুখসৃত বাণী তথা ছহীহ হাদীছ ছাড়া পবিত্র কোরআনকে পুংখানো পুংখরূপে বুঝা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। রাসুল (ছা:) হলেন পবিত্র কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকারী (সুরা ফুরকান: ৩৩)। ‘উছুলে হাদীস’ সাবজেক্টটি পড়লে ছহীহ হাদীছকে সহজে ছিনা যায়। অথচ এই সবজেক্টটি লেজার ঘন্টার পরে করা হয়েছে যখন ছাত্ররা আর ক্লাসে থাকেনা। কিন্তু পরীক্ষার সময় কোন রকম লিখলেই লেটার মার্ক পাওয়া যায়। ছাত্ররা যদি “উছুলে হাদীছ” না জানে তাহলে ছহীহ হাদীছ বুঝবে কিভাবে? আর ছহীহ হাদীছ বুঝতে না পারলে পবিত্র কোরআন বুঝবে কি দিয়ে? নাস্তিকরা চায় মুসলমানের সন্তানগন পবিত্র কোরআন থেকে দুরে থাকুক, এটাই তাদের ইচ্ছা। মুসলমানের সন্তানদেরকে ছালাত থেকে দুরে রাখার জন্য ইহুদীÑনাছারাগন কিভাবে ষড়যন্ত্র করেছে একটু ভেবে দেখা খুবই প্রয়োজন । দেখুন, মাদ্রাসার মিশকাত হাদীছ গ্রন্থটির সিলিবাস কিভাবে সাজানো হয়েছে ক্লাস পিরিউডে? মিশকাতের যেখন্ডে ছালাত অধ্যায় রয়েছে তা দিয়েছে ‘আলেম ২য় বর্ষে। ছালাত শুরু করার হাদীছ হল ৭৫৬ নং হাদীছ থেকে। দেখা গেছে ‘আলেম ২ষ বর্ষে ৭৫৬ নং হাদীছ পর্যন্ত পৌছতে না পৌছতেই কেন্দ্রীয় সেন্টার পরীক্ষা চলে আসে। পরীক্ষা পাশ করেই ছাত্ররা বিভিন্ন গ্র“পে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়। অর্থ্যাৎ মুসলমানের সন্তান ‘আলেম পাশ করেও রাসুল (ছা:) এর হাদীছ অনুযায়ী ছালাত শিখতে পারে না। মাদ্রাসায় মিশকাতের ছালাত অধ্যায়টি থাকার প্রয়োজন ছিল অষ্টম ক্লাসে। কিন্তু তা না হয়ে তৎকালীন ব্রিটিশদের তৈরী করা সেই সিলিবাসগুলো মাদ্রাসায় আজো চলছে। তাইতো মুসলমানের সন্তানরা ছালাতের মর্ম বুঝেনা। অন্যকে বা বাপ-দাদা পূর্বপুরুষকে দেখে দেখে অথবা মুক্তবের একমুট চাউলের শিক্ষা অনুযায়ী ছালাত আদায় করে। অথচ আমরা সবাই জানি মানুষ ইসলাম কবুল করার পর সর্বপ্রথম কাজ হল গোসল করে সঠিক নিয়মে সুন্দরভাবে ছালাত আদায় করা। পৃথিবীতে অন্য কোন ইবাদতের জন্য মানুষ মানুষকে কাফের মনে করেনা কিন্তু ছালাতের জন্য মানুষ মানুষকে কাফের মনে করে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৯)। ছালাতের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৪)। ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম হিসাব হবে ছালাতের, যার ছালাত কবুল হবে তার সমস্ত আমলই কবুল হবে। আর যার ছালাতের হিসাব সঠিক হবে না তার সমস্ত আমলই বরবাদ হবে”(সিলসিলা ছহীহা হা/১৩৫৮)। মুসলমানের সন্তানকে ছালাত থেকে বিরত রাখার জন্য নাস্তিকদের চাক্রান্ত আজো চলছে। সর্বদিকে গান-বাজনা, নিত্যানুষ্ঠান চলছে। মুসলমানের সন্তানরা সেখানে ভিড় জমাচ্ছে এবং যুবক-যুবতী একসাত হয়ে আধুনিক পোষাক পরে হৈ-হাল্লায় মেতে উঠছে। অথচ রাসুল (ছা:) গান-বাজনার শব্দ শুনে দুই কানে আঙ্গুলে দিয়ে রাস্তা পার হতেন (ছহীহ আবু দাউদ হা/৪৯২৪)। আর মুসলমানের সন্তানেরা কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে গান শুনে, হায় আফসুস! আমরা রাসুল (ছা:) কে কতটুকু মানি ছোট্র একটি উদহারণ দিলাম। ইহুদী-নাছারাদের এ সমস্ত আড্ডাখানায় মুসলামানদের সন্তানরা গিয়ে তাদের অনুষ্ঠানকে মাতিয়ে তুলছে এবং দিন দিন ইসলাম থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। এই গান-বাজানা এখন মুসলিম সন্তানের নিত্য দিনের সংগি। বহু ছেলেকে দেখা যায় আযান হচ্ছে তবুুও সে কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনে এবং টেলিভিশন চালিয়ে নাচ-গান দেখে। ছালাত তো এ সমস্ত ছেলের কাছে স্বপ্নের মত। আপনি কি ভেবে দেখেছেন কেন আজ মুসলিম সমাজে ছালাতকে নামায বলা হয়? কেন আজ ছিয়ামকে রোজা বলা হয়? কেন আজ আল্লাহকে খোদা বলা হয়? কেন আজ পবিত্র কোরআন মজীদকে কোরআন শরীফ বলা হয়? কেন আজ বিছমিল্লাহ এর পরিবর্তে ৭৮৬ লেখা হয়? কেন আজ ছাগল একটা বড় হলে রাম ছাগল বলা হয়? কেন আজ মারা-মারি একটু বেশি হলে রাম ধুলাই বলা হয়? কেন আজ দা একটা একটু বড় হলে রাম দা বলা হয়? কে সে রাম? সবই নাস্তিক্যবাদীদের চক্রান্ত। বর্তমানের মেয়েদের কানের দুল বানানো হচ্ছে + খৃষ্টানদের ক্রস প্রতীকে। আর মুসলিম মেয়েরা নির্দিধায় তা ব্যাবহার করছে।
বর্তমানে হিন্দি চলচিত্রের নাম দেওয়া হয়েছে “ঔঁ শান্তি ঔঁ” অর্থ্যাৎ মুসলমানের সন্তানের মুখ দিয়ে বিধর্মীরা তাদের দেব-দেবীর নাম বের করেই ছাড়বে। না হয় চলচিত্রের নাম এমন হবে কেন? নাস্তিক্যবাদীদের একটাই উদ্দেশ্য মুসলমানদের ঈমানকে ধ্বংস করা। মহান আল্লাহ বলেনঃ “ইহুদী -নাছারা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন”(সুরা বাকারা ১২০)। মুসলিম ভাই ও বোন, তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে ঈমানকে রক্ষা করুন। উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃটিশদের তৈরী করা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৎকালীন সর্বপ্রথম যে প্রিন্সিপাল ছিল সে ছিল খৃষ্টান ডঃ ¯েপ্রংগার। এভাবে স্তরে স্তরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৭ জন প্রিন্সিপালই ছিল খৃষ্টান (সূত্র: আলিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস: ই.ফা. বাংলাদেশ)। ইংরেজদের তৈরী করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি তৎকালে ইংরেজগন প্রধান শিক্ষক হয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানে ইংরেজদের কোন স্বার্থ থাকবেনা তা কিভাবে বিশ্বাস যোগ্য হতে পারে? বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামী সংগঠন গুলোর কথাই ভাবুন। জাম‘আতে ইসলাম, আহলেহাদীছ, চরমনাই, ছারছিনা, তাবলীগ, ব্রেলভী ইত্যাদি সংগঠন রয়েছে। প্রত্যেক সংগঠনের পৃথক পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। কিন্তু কেন? এই জন্য যে, প্রত্যেক সংগঠনের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব কিছু আক্বিদা রয়েছে। তদ্রুপ ইংরেজদের তৈরী করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজদেরও নিজস্ব কিছু আক্বিদা থাকা স্বাভাবিক। একজন হিন্দুর ঘরে একজন মুসলমান নিয়মিত ভাবে কত % হালাল খাবারের আশা করতে পারে? তাই বলছি, ইংরেজদের তৈরী করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি এক সিরিয়ালে ১৭ জন প্রিন্সিপালই বিধর্মী খৃষ্টান হয়। তাহলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে একজন মুসলমানের সন্তান ইসলামের জন্য কতটুকু দ্বীনি শিক্ষার আশা করতে পারে?। ঠিক তেমনি ইংরেজদের রেখে যাওয়া বাংলাদেশের পুরাতন সংবিধান। যদিও বর্তমানে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ইংরেজদের রেখে যাওয়া পুরানো সিলিবাসগুলো বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় আজো চলছে, যার কোন পরিবর্তন নেই। ফলে মুসলমানের সন্তানরা স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় পড়েও সঠিক ইসলাম স¤পর্কে দিশেহারা। এককে আলেম একেক রকম ফতোয়া দিচ্ছে। দলে দলে বিভক্ত হয়ে নিজস্ব আক্বিদা ও আমল অনুযায়ী ইসলাম মানছে। অথচ শান্তির ধর্ম ‘ইসলাম’ ছিল এক রকম। কেবল মাত্র মোহাম্মাদ (ছা:) এর প্রদর্শিত ইসলাম। যার মধ্যে ছিলনা কোন দলাদলি, ছিলনা কোন মারা-মারি। ইসলামের মাঝে এ সমস্ত দলাদলির কারনে সাধারণ মানুষ আজ সত্য গ্রহনে হিমশিম খাচ্ছে। তারা না পারছে বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করতে, না পারছে সত্যকে গ্রহন করতে।
সারকথা এই যে, বাংলাদেশের সংবিধান হতে শুরু করে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সিলিবাসই ইংরেজদের তৈরী করে রেখা যাওয়া সেই পুরাতন সিলিবাসের কিছু অংশ। যার জন্য এদেশে প্রতিতালয় আছে, মদের দোকানে লাইসেন্স দেয়া হয়, ইংরেজী সাজেক্ট প্রথম ঘন্টায় হয়, ইসলাম শিক্ষা সাবজেক্ট লাষ্ট পিরিউডে হয়। আর মাদ্রাসায় পড়ানো হয় সবই মানুষের মনগড়া কথা দিয়ে রচনা করা “কুদুরী, হিদায়া, বেক্বায়, শাশী, নুরুল আনোয়ার কিতাব। ফতোয়া দেয়া হয় ফতোয়া আলমগীর থেকে, বেহেতী জেওর থেকে। জীবনী পড়া হয় কেসাসুল আম্বিয়া। মহিলারা ঘরের কোনে পড়ে মকছুদুল মুমিন ইত্যাদি কিতাব। সর্বত্র ভাবে কোথাও হাদীছ পড়ানো হয় না এবং সরাসরি হাদীছ অনুযায়ী ফতোয়াও দেয়া হয় না। আমি মনে করি এই সবের মুলে রয়েছে নাস্তিক্যবাদীদের গভীর চক্রান্ত এবং ইংরেজদরে রেখে যাওয়া সেই পুরানো সিলিবাস অনুসরন। মনে রাখবেন, নাস্তিকরা কখনো কোন দিন মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করেনা। এই মর্মে মহান আল্লাহ বলেন: “ইহুদী-নাছারাগণ কখনো আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত আপনি তাদের ধর্মের অনুসরন না করবেন”(বাকারা ১২০)। ভাববার বিষয়, কেন আজ বাংলার আলেম-ওলামা ঐক্য হতে পারছেনা? সব আলেম যদি ঐক্য হয়ে দ্বীনের পথে সংগ্রাম করতো অর্থ্যাৎ একই পদ্ধতিতে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতো, একই পদ্ধতিতে ছালাত পড়তো তাহলে ইসলাম বিদ্বেষীদের হাস্যজ্জল প্রদীপ কবেই নিবে যেত। বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় রয়েছে ইংরেজদের তৈরী করা পুরাতন সিলিবাস, মানুষের আক্বিদায় রয়েছে শিরক, মানুষের আমলে রয়েছে বিদআত, শান্তি আসবে কোন দিক দিয়ে? সব দরজা যেন একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। জায়গায় জায়গায় আজ শরীয়তের বিভিন্ন মাসলা নিয়ে দন্ধ। অথচ মুসলমানদের মাঝে দন্ধ থাকার কথা নয়। মুসলিম হল ভাই ভাই। কেননা একই আল্লাহ, একই নাবী, একই কোরআন, একই হাদীছ। তাহলে দন্ধ থাকবে কেন? আসলে সব দন্ধের পিছনে রয়েছে নাস্তিক্যবাদীদের চক্রান্ত। তাই তাদের সংগ ত্যাগ করে ঈমানকে রক্ষা করুন। “তাদেরকে কখনো বন্ধু মনে করবেন না”(সুরা ইমরান ২৮)।
(আমার প্রত্যেকটি লেখা কেবল মাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সত্যকে প্রকাশ করা)

Share.

Leave A Reply