মানসিক হাসপাতালে সালাহ উদ্দিন

0

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ বলেছেন, ‘ভারতের মেঘালয়ের একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালাহ উদ্দিন আহমেদ।’

মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানস্থ নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘শিলং নিমহ্যাল নামে একটি হাসপাতাল থেকে তিনি আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে ফোনে বলেন- আমি বেঁচে আছি, সবার দোয়ায় ভালো আছি।’

দুপুরের দিকে হাসিনা আহমেদ বলেছিলেন, ‘ওনি (সালাহ উদ্দিন) ইন্ডিয়ায় আছেন। আমি একটু ব্যস্ত আছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পদক আব্দুল লতিফ জনি বাংলামেইলকে বলেছিলেন, ‘এ বিষয়টি আমরাও শুনেছি। তবে এখনো নিশ্চিত নই। কারণ সালাহ উদ্দিন আহমেদ স্বশরীরে আমাদের মাঝে উপস্থিত না হলে এই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না।’

তিনি বলেন, ‘সালাহ উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই বিএনপি যখন নিশ্চিত হবে সালাহ উদ্দিন আহমেদ জীবত রয়েছেন, কেবলমাত্র তখনই বলা যাবে তিনি বেঁচে আছেন।’

সালাহ উদ্দিনের সন্ধানের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত তথ্য কর্মকর্তা কামরুল আহসান বাংলামেইলকে বলেন, ‘পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।’ একই কথা জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপ-পরিচালক মেজর খোকন মাহমুদ।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসিন রেজা বাংলামেইলকে বলেন, ‘এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আর এ বিষয়টি আমরা জানিও না।’

প্রসঙ্গত, গত ১০ মার্চ রাতে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উত্তরার একটি বাসা থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সালাহ উদ্দিন নিয়মিতই দলের পক্ষে বিবৃতি দিতেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করতেন।

নিখোঁজের ঘটনায় গত ১২ মার্চ সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি ফৌজদারি আবেদন করেন সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী। শুনানি শেষে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ১৫ মার্চের মধ্যে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এসবি), পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (সিআইডি), ঢাকা জেলা প্রসাশক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, উত্তরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

Share.

Leave A Reply