যুক্তরাষ্ট্র ভেঙে স্বাধীনতা চায় এক-চতুর্থাংশ আমেরিকান

0

স্বাধীনতা অর্জনের সুযোগ পেয়ে স্কটিশরা তা প্রত্যাখ্যান করলেও এবার নতুন এক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে যে এক এক চতুর্থাংশ আমেরিকান নাগরিকই চান যুক্তরাষ্ট্রে ভেঙে স্বাধীন হতে।
রয়টার্স/ইপসস পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ২৩.৯ শতাংশ আমেরিকান চান যে তাদের রাজ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা হয়ে যাক।
২৩ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮,৯৫২ জন উত্তরদাতার ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়।
তবে ৫৩.৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পৃথক হওয়ার বিরোধিতা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার থেকে ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের দমনসহ নানা ইস্যুতে অসন্তোষ থেকে উত্তরদাতারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকানরা ওবামার শাসনে বেশি অসন্তুষ্ট।
তবে অনেকে বলেছেন, ওয়াশিংটনে অচলাবস্থা বিরাজ করলেও পৃথক হয়ে গেলেই সমস্যার সমাধান হবে কিনা তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
আমেরিকান দক্ষিণের দাসপ্রথা নিয়ে এক রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের পর গত ১৫০ বছরে কোনো অঙ্গরাজ্যই স্বাধীনতার দাবি তোলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে আর্থিকভাবে অচল ৬১ বছর বয়স রয় গুস্তাফসন বলেন, ‘যে দলই সরকার পরিচালনা করুক না কেন আমার মনে হয় তাতে কিছু যায় আসে না। কোনো কাজই হয় না। নিজের বিষয়াদি আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা দরকার রাজ্যগুলোর।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওবামা প্রশাসনের প্রতি ক্রমহ্রাসমান জনসমর্থন, স্কটিশদের ভোটের প্রতি মনোযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মাত্রাতিরিক্ত কর্তৃত্বপরায়ণতার বিরুদ্ধে মানবাধিকারকর্মীদের সফলতা এবং স্বঘোষিত মানবাধিকার মিলিশিয়াদের এ বছরের গোড়ার দিকে নেভাদায় জড়ো হওয়ার ঘটনায় পৃথকীকরণের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।
জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পৃথক হওয়ার ব্যাপারে রিপাবলিকানই বেশি এগিয়ে। ২৯.৭ শতাংশ নিবন্ধিত রিপাবলিকান চায় তাদের রাজ্য আলাদা হয়ে যাক। ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই সংখ্যা ২১ শতাংশ।
পৃথক হওয়ার কারণ হিসেবে নর্থ ক্যারোলাইনার উইলকেসবোরোর ৩১ বছর বয়সী নার্স ব্রিটানি রয়্যাল বলেন, ওবামার স্বাস্থ্য সেবা সংস্কারের পর তিনি ভাবছেন যে তাদের রাজ্য এর চেয়ে ভালো কিছু করতে পারে কিনা।
রিপাবলিকান সমর্থক ব্রিটানি বলেন, ‘আমিসহ আমার চার সদস্যের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য বীমার কিস্তি সপ্তাহে ৪০ ডলার থেকে বেড়ে এখন মাসে ৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। নর্থ ক্যারোলিনা সরকারই টেকসই। আমার মনে হয় গভর্নর ম্যাকক্রয়ের স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ওবামার চেয়ে ভালো।’
পৃথক হওয়ার ধারণাটি সবচেয়ে কম জনপ্রিয় বিপ্লবের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউ ইংল্যান্ডে’।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপুর্বাঞ্চলীয় ৬টি অঙ্গরাজ্য –মেইন, ম্যাসাচুয়েটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ভারমন্ট, রোড আয়ল্যান্ড ও কানেক্টিকাটকে নিউ ইংল্যান্ড বলা হয়।
এখানকার ১৭.৪ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের রাজ্যকে আলাদা দেখতে চান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পৃথক হওয়ার পক্ষে সবচেয়ে বেশি সমর্থন কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে, ৩৪.১ শতাংশ।
এই অঞ্চলের মধ্যে থাকা টেক্সাসে একটি সংগঠন স্বাধীনতার জন্য রাজ্যব্যাপী গণভোটের দাবি জানাচ্ছে।
একজন টেক্সান উত্তরদাতা বলেন, তার আস্থা আছে যে পৃথক হয়ে গেলে তাদের রাজ্য সারাদেশ থেকে আরো ভালো চলবে।
মার্ক ডেনি নামের ৫৯ বছর বয়সী ওই অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এখন অসহায়তা সহায়তা নিয়ে ডালাসের বাইরে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, ‘ আমাদের যা প্রয়োজন তার সবকিছুই টেক্সাসে আছে। আমাদের শিল্পোৎপাদন আছে, তেল আছে। আমাদের ওদেরকে প্রয়োজন নেই।’
রিপাবলিকান সমর্থক ডেনি স্কটিশদের স্বাধীনতা আন্দোলনেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপারে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকান হউক, ডেমোক্র্যাট হউক আর নিরপেক্ষ হউক না কেন, আমি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছি।’
সূত্র: রয়টার্স, লস এঞ্জেলেস টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া

Share.

Leave A Reply