লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার না করলে প্রমাণিত হবে আ.লীগ মুরতাদদের দল: হেফাজত

0

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার দাবি করে এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পৃথিবীর দেড়শ’ কোটি মুসলমানের কাছে নিজের জীবনের চাইতে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি মানবতার মুক্তির দূত এবং মহান আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। অন্যদিকে হজ মুসলমানদের প্রধান পাঁচটি মৌলিক ধর্মীয় স্তম্ভের অন্যতম। পবিত্র হজ ও হাজীদের কটাক্ষ করা মহানবী সা.-কে বিদ্রুপাত্মক ভাষায় তাচ্ছিল্য করার স্পর্ধা দেখিয়ে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিউ ইয়র্কে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন তা কেবল একজন উগ্র নাস্তিকের পক্ষেই সম্ভব। আমরা অবিলম্বে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার এবং ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতারপূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যদি সরকার তার বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তবে দেশের লক্ষ-কোটি নবীপ্রেমিক জনতা আবারও ২০১৩ সালের মতো সারাদেশে নাস্তিক-বিরোধী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। এবং প্রমাণিত হবে আ’লীগ নাস্তিক-মুরতাদদের দল। আমরা ক্ষুব্ধ, বিস্মিত, স্তম্ভিত এবং লজ্জিত যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে গিয়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মহানবীর ব্যাপারে জঘন্য কটূক্তি, পবিত্র হজ ও হাজীদের ব্যাপারে চরম আপত্তিকর মন্তব্য এবং তাবলীগ জামাআতের ব্যাপারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে সাহস পেলেন। আমরা একই সাথে হুশিয়ারি উচ্চারণ করছি, সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে তার জন্য সালমান রুশদী ও তাসলিমা নাসরিনের পরিণতি অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের মাটিতে তাকে পা রাখতে দেয়া হবে না; সেই সাথে সংখ্যারিষ্ঠ নবীপ্রেমিক জনতা সরকারের হঠকারিতারও উপযুক্ত জবাব দেবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ তার বিরুদ্ধে সারাদেশে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে আহ্বান জানান।

বিবৃতিদাতারা হলেন, হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা শামসুল আলম, মাওলানা শাহ্ আহমদুল্লাহ আশরাফ, মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা তাফাজ্জল হোসাইন হবিগঞ্জ, মুফতি মোজাফফর আহমদ, মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুরপুর, মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী।

প্রসঙ্গত, রোববার বিকেলে নিউ ইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউ ইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীদের সাথে এক মতবিনিময়কালে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও হজ ও তাবলীগ জামাতের বেশি বিরোধী। তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। মন্ত্রী বলেন, এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের ৫ হাজার টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। তিনি হজের শুরু প্রসঙ্গে বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারিরা প্রতিবছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এরমধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।

তাবলীগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তাবলীগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারাদেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।

Share.

Leave A Reply