শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন কামাল

0

আইসিসি সভাপতিকে পুরস্কার বিতরণ থেকে কার্যত সাসপেন্ড করায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ সংস্থার সভাপতি মুস্তাফা কামাল। সেইসঙ্গে বিক্ষুব্ধ গোটা দেশ। কারণ আইসিসি-র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিজয়ী দলের হাতে বিশ্বকাপ তুলে দেওয়ার কথা কামালের। আইসিসি সভাপতির।

কিন্তু শিরোপা দেয়া দূরের কথা, পুরস্কার মঞ্চেই ছিলেন না কামাল। বিজয়ী দলকে শিরোপা তুলে দিয়েছেন আইসিসি চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসন।

এদিকে রবিবার বিশ্বকাপের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে না থাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘আজ আমার পুরস্কার দেয়ার কথা ছিল। এটি আমার সাংবিধানিক অধিকার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে পুরস্কার দিতে দেয়া হয়নি। আমার অধিকার হরণ করা হয়েছে। একেবারই ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক ঘটনা এটি। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানাবো ঢাকায় পৌঁছে। এটা জানানো আমার দায়িত্ব। দেশের মানুষের সামনে সব তুলে ধরবো। এটা বলতে পারি, আমি দেশের পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি। দেশের পক্ষে থাকার জন্যই হয়তো শিরোপা তুলে দিতে পারিনি।’

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা সেদিনের ঘটনা তুলে এনেছে, পুরস্কার বিতরণের পূর্ব মুহূর্তে যখন মুস্তফা কামাল বসেছিলেন আইসিসি বক্সের নীচের গ্যালারিতে। তবে পুরস্কার তুলে দেবার আগেই তিনি ওই স্থান থেকেও বেরিয়ে যান।

পত্রিকাটি জানায়, রবিবার এখানে একলা বসে কামাল বললেন, ‘এটা ওরা করতে পারে না। কতগুলো বাজে লোক জুটে এটা করল যা সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ।’

‘এদের সঙ্গে কী করে এক বক্সে বসব, তাই আলাদা বসে রয়েছি,’ বললেন তিনি। শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি পেলে এ নিয়ে আইসিসির কাছে বাংলাদেশ সরকারও অভিযোগ জানাতে পারে। চূড়ান্ত ছবিটা বোঝা যাবে সোমবার যে, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।

বিশ্বকাপ দেওয়া নিয়ে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে এ বিষয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলো পত্রিকাটি। কিন্তু বোঝা যায়নি সেটা এই পর্যায়ে নামতে পারে। জানা গেল শনিবার রাত্রে আইসিসি-র জনাকয়েক সদস্যকে নিয়ে বেসরকারি বৈঠক করেন শ্রীনিবাসন। সেখানেই বলে দেন কামালকে যে, আইসিসি-র কোড অব কন্ডাক্ট ভাঙার অভিযোগে আপনাকে আমরা ট্রফিটা দিতে দেব না।

কামাল অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, মিস্টার শ্রীনিবাসন, আজকের দিনে আইসিসি প্রেসিডেন্ট কে? শ্রীনি বলেন, আপনি। কালকে আইসিসি প্রেসিডেন্ট কে থাকবে? শ্রীনি বলেন আপনি।

তাই যদি হয় তা হলে আমি বিশ্বকাপ তুলে দেব না কেন? শ্রীনি তখন বলেন, উত্তরটা আপনাকে আগেই দেওয়া আছে।

এই সময় নাকি তীব্র বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। শ্রীনি এই বিতর্ক নিয়ে এবিপিতে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি। বলেন, ‘এটা থাক। বাংলাদেশ ম্যাচে কী হয়েছিল আপনারা সবাই খেলা দেখেছেন। আমি এর মধ্যে ঢুকব না।’

শোনা যাচ্ছে, মুস্তাফা কামাল মোটেও সহজে হার মানেননি। তর্কাতর্কির মধ্যে আইসিসি প্রেসিডেন্ট রীতিমতো আইসিসি চেয়ারম্যানকে শাসান। ‘আপনি এমন কোনও বেআইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাহলে আইসিসি-র গঠনতন্ত্র বদলাতে হবে।’ শ্রীনি তাতেও প্রভাবিত নন দেখে তাকে বলা হয়, ‘এতে কিন্তু আগুন জ্বলে যাবে। আপনি বুঝতে পারছেন না কী করতে যাচ্ছেন!’

কিছু পরে বাংলাদেশ বোর্ড প্রেসিডেন্টও শ্রীনির সঙ্গে দেখা করে তাদের তীব্র আপত্তির কথা জানান। বাংলাদেশের তরফে বলা হয়, আইসিসি-কে আড়ালে আবডালে বলা হয় ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। আজকের পর থেকে তো আরওই বলবে। শ্রীনি তাতেও কর্ণপাত করেননি। তার সঙ্গে আইসিসি-র অন্য কর্তারাও না। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের পর আইসিসি প্রধানের আম্পায়ারিং নিয়ে তীব্র কটূক্তি ডেভ রিচার্ডসন-সহ আইসিসি কর্তারা কেউ ভুলতে পারছেন না। তারা মনে করেন, এর ফলে প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার অবমাননা হয়েছে।

আইসিসি সভাপতির পাল্টা বক্তব্য, কেন তিনি কী বলেছেন তা তো আগে তাকে জবাবদিহি করে তার বক্তব্য শুনতে হবে। এক্সিকিউটিভ বোর্ড তার বক্তব্য খতিয়ে বিচার করে গঠনতন্ত্র বদলাবে, তবে তো তাকে সরানোর প্রশ্ন।

রাতে দেখা হতে বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলবো। ঢাকা ফিরে আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলবো, তার পর দেখছি।’ শোনা গেল, এ ঘটনায় প্রয়োজনে মামলা করতে পারেন কামাল।

কিন্তু এত অপমানিত যখন, মাঠে এলেন কেন? বাংলাদেশ ক্রিকেট মহলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বললেন, ‘আসাটা আইনজীবীর পরামর্শে যে, আমি তখন সশরীরে মাঠে অথচ আমাকে প্রাইজ দিতে ডাকেনি।’

বাংলাদেশে ইতিমধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে তাদের লোককে গায়ের জোরে করে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে সরিয়ে রাখছে। এতে ক্রিকেট মহলের ভারত-বিরোধী অসন্তোষ আরও বাড়ার কথা।

মুস্তাফা কামালের আম্পায়ারিং নিয়ে মন্তব্য করা অত্যন্ত অসমীচীন হয়েছে এটা যারা মনে করেন তাদেরও বক্তব্য, আইসিসি কেন তাহলে তাকে শো-কজ করল না? বেসরকারি বৈঠক করে এভাবে বাদ দেওয়াটা তো বেআইনি? সেই দাদাগিরি ভারত করবে কেন? আর তাদের করতে দেওয়াই বা হবে কেন?

বিশ্বকাপ ফাইনাল যেমন একতরফা হলো, এই ম্যাচটা তত সহজে নিষ্পত্তি হবে বলে মনে হয় না।

ভারতের বাংলাদেশ সফর করার কথা আগামী জুনে। কিন্তু দু’দেশের ক্রিকেট প্রশাসনিক সম্পর্ক যেমন তিক্ততার স্তরে পৌঁছেছে, তাতে সফরটা হবে কি না এই মুহূর্তে ঘোরতর অনিশ্চিত।

Share.

Leave A Reply