শ্রীলঙ্কার কট্টরপন্থি বৌদ্ধদের সাথে হাত মেলালেন মিয়ানমারের চরমপন্থি বৌদ্ধরা

0

মিয়ানমারের একজন ধর্মীয় মৌলবাদী বৌদ্ধভিক্ষু ধর্ম রক্ষার জন্য শ্রীলঙ্কার কট্টরপন্থি বৌদ্ধদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

মিয়ানমারের বিন লাদেন নামে পরিচিত ভিক্ষু অসিন উইরাথুরের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে মুসলিম নিধন যজ্ঞে উস্কানির অভিযোগ রয়েছে।

তিনি ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে আলাদা একটি বুদ্ধিস্ট ফ্রন্ট গড়ে তোলার জন্য বিতর্কিত ৯৬৯ আন্দোলন মতবাদটি ছড়িয়ে দিতে চাইছেন।

রবিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর একটি ইনডোর স্টেডিয়ামে এ বিষয়ে এক সম্মেলনে অসিন উইরাথুর বলেন, ‘বর্তমানে বৌদ্ধধর্ম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ধ্বংসের হাত থেকে বৌদ্ধধর্মকে রক্ষা করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকারী একটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ৯৬৯ আন্দোলনের ঘোষণা এবং সারা বিশ্বের বৌদ্ধদের রক্ষা করতে শ্রীলঙ্কার বোদো বালা সেনাদের (বিবিএস) সঙ্গে একত্রে কাজ করার ঘোষণা দিচ্ছি।’

গত মার্চে বিবিএসের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিলের সময় শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলবর্তী দুটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরে জাতিগত সংঘাত দেখা দিয়েছিল।

উইরাথু তার আট মিনিটের বক্তৃতায় ভিসা দেওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজাপাকসেকে ধন্যবাদ জানান।

দেশটির কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের আপত্তি সত্ত্বেও ধর্মীয় এই মৌলবাদী নেতাকে ভিসা দেয় শ্রীলঙ্কা। এ নিয়ে সমালোচকরা বিবিএসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় লঙ্কান প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা করেছেন।

উইরাথুকে কালো পোশাক পরিহিত বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী পাহারা দিয়ে সম্মেলনস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথা অনুযায়ী ঢাক পিটিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং উপস্থিত কয়েক হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সামনের সারিতে বসতে দেয়া হয়।

উইরাথুর বৌদ্ধদের এ সম্মেলনে বলেন, ‘বৌদ্ধধর্মকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। আর এটা করেছে মুসলিম চরমপন্থিরা। তার দল ও বিবিএস বৌদ্ধ ধর্ম রক্ষায় অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে, খারাপ, অসভ্য মানুষদের ভাল ও সভ্য বানানো। কেন না বৌদ্ধের পুত্র আমাদের এ শিক্ষাই দিয়েছেন। কোনো এক জায়গায় বৌদ্ধদের বিপদ হলে তাদের রক্ষা করতে অন্যান্য বৌদ্ধ দেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে হবে।’

যদিও বিবিএস সঙ্গে তার দল কিভাবে কাজ করবে তার কোনো বিশদ ব্যাখ্যা উইরাথুর সম্মেলনে দেননি।

তবে বিবিএসের কনভেনশনটি এমন এক সময়ে হলো যখন শ্রীলঙ্কায় একটি আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গুঞ্জন রয়েছে। আসছে জানুয়ারিতে এটি হতে পারে আর তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আশা করছেন মাহেন্দ্র রাজাপাকসে।

একই সম্মেলনে বিবিএসের মহাসচিব গালাগোদা তার বক্তৃতায় বলেন, ‘তার দল আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে একটি বড় ভূমিকা রাখবে। দলের তৃণমূলের সমর্থন দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার ৫০ লাখ বৌদ্ধ ভোটারের নিরাপত্তার জন্য সম্মেলনে আগত ৫,০০০ সন্ন্যাসীর প্রত্যেকের নিজ গ্রামের মন্দিরগুলোতে অন্তত ১,০০০ ভোট ব্যাংক তৈরি করা উচিত।’

শ্রীলঙ্কায় সোয়া দুই কোটি জনসংখ্যার মধ্য ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ সিংহলিজ ভোটার। সম্মেলনে বিবিএস শ্রীলঙ্কাকে বহুজাতিক রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি বৌদ্ধ সিংহলিজ রাষ্ট্র ঘোষণা করারও প্রস্তাব দেয়।

সূত্র: রয়টার্স

Share.

Leave A Reply