সুন্দরী কিশোরীর পরিকল্পনায় অপহৃত ব্যবসায়ী হবি!

0

বেনাপোল সীমান্তের পুটখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবি গত সোমবার ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় আসেন। ওইদিন তার পূর্ব পরিচিত সুন্দরী কিশোরী জান্নাতুল ফেরদৌস জোসনা (৩২) নতুন ব্যবসার বিষয়ে আলোচনার কথা বলে তাকে কমলাপুরে যেতে বলেন। জোসনার কথা মতো হবি তার ছেলে ও গাড়ি চালকসহ কমলাপুরে উপস্থিত হন।

এদিকে জোসনা তার দলবল নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। হবি কমলাপুরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচরে অন্য গাড়িতে তুলে মুগদার মানিকনগর এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় প্রবেশের পরই শিকল দিয়ে হবির হাত-পা বেঁধে ফেলে মো. আব্দুল মান্নান পলাশ। এরপরই শুরু হয় হবির উপর শারীরিক নির্যাতন।

হবিকে তার বাসায় খবর দিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ৬০ লাখ টাকা এনে দেয়ার প্রস্তাব দেয় জোসনা। প্রথম অবস্থায় হবি তাদের এ প্রস্তাবে সাড়া না দিলেও পরে অতিমাত্রার নির্যাতনের কারণে বাসায় মুক্তিপণের টাকার কথা জানান। অপহরণের কথা জানতে পেরে হবির আত্মীয়স্বজনরা তাৎক্ষণিক মতিঝিল থানায় একটি মামলা দয়ের করেন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে অপহরণের ঘটনাটি খুলে বলেন।

স্বজনদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহৃত হবিকে উদ্ধারে মাঠে নামে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গুপ্তচরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে গোয়েন্দারা। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কশিনার এসএম নাজমুল হকের নেতৃত্বে মুগদা থানার মানিকনগর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে অপহৃত হবিকে উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ অপহরণকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আব্দুল মান্নান পলাশ, জিএম জুবায়ের আহমেদ, মো. মজিবর রহমান, মাহবুবুর রহমান জিসান, জান্নাতুল ফেরদৗস জোসনা ও বৃষ্টি আক্তার।

অপহৃত হবিআপহরণের বর্ণনা দিয়ে হবি বলেন, ‘যশোর থেকে নভো এয়ারের একটি ফ্লাইটে আমি ঢাকায় আসি। এসময় জোসনা আমাকে ফোন দিয়ে নতুন ব্যবসার বিষয়ে আলোচনা আছে বলে কমলাপুরে যেতে বলেন। আমি ওখানে গেলে তারা আমাকে জোরপূর্বক একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এসময় জোসনা আমার কাছে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আমি টাকা দিতে অপারগতা জানালে তারা আমার উপর চরমভাবে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। পরে না পেরে আমি বাড়িতে ফোন দিয়ে টাকার কথা বলি।’

ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই চক্রটি দীর্ঘ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের ঢাকায় ডেকে এনে জিম্মির পর মুক্তিপণ দাবি করে। অনেকেই আবার মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি লাভের পর অপহরণের ব্যাপারে আর কিছু জানাতে চান না। এ কারণেই এতোদিন এই চক্রটিকে ধরা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আপহরণকারী চক্রের নেতৃত্ব দেয় পলাশ। সে দীর্ঘদিন ধরে যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্রের চালান এনে রাজধানীতে বিক্রি করতো। যেহেতু আজ ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি।’ পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য জানা যাবে বলেও জানান পুলিশের এ মুখপাত্র।

Share.

Leave A Reply